বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি


বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি ৪৮ ঘন্টায় ৭৫ সেন্টিমিটারেরও বেশি বেড়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টায় যমুনা নদীর পানি বগুড়ার ধুনটের মথুরাপাড়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আকষ্মিক বন্যায় ইতোমধ্যেই জেলার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে। বন্যা কবলিত মানুষ স্থানীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সোমবার থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রায়হানা ইসলাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় মোট ২৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ৯৮টি গ্রামের ৬৬ হাজার ৮’শ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কবলে পড়েছে মোট ১৬ হাজার ৪৪০টি পরিবার। ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্গতদের জন্য ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও১৪২ মেট্রিক টন জি আর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সোমবার থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী দূর্গতদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, বন্যায় এই তিন উপজেলার মোট ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ১০ হেক্টর জমির পাট, ৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৪০ হেক্টর জমির সবজি, ৯ হেক্টর জমির মরিচ ৩৫ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ৪ হেক্টর জমির আখসহ মোট ৮ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ২২২টি পুকুরের প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। তিনি জানান, বন্যা কবলিত তিন উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধ এখনো অক্ষত আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সুরক্ষায় কাজ করছে। একই সাথে পুলিশ প্রশানও এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩২টি মেডিকেল টীম দূর্গত এলাকায় কাজ করছে বলেও জেলা প্রশাসক জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ