বগুড়ায় শিক্ষানবিশ চিকিৎকদের সাজা || অন্যায়কে অন্যায় বলে মানতেই হবে

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

এবার বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎকরা ধর্মঘট করছেন। তাদের চার সহকর্মীকে সাজা দেয়ার পরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে কাজ করছেন না তারা।
এক রোগির আত্মীয়কে মারধরের ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে তাদের ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে। মেয়াদ শেষে এই চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে চারটি ভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে। তবে এই মেডিকেলের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা ধর্মঘট করছেন কি না সে ব্যাপারে পূর্ব কোনো ঘোষণা দেননি তারা। সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
দুই দিন সারা দেশের মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছিল পরিবহণ শ্রমিকরা। তাদের ডাকা অযৌক্তিক ধর্মঘটের কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় নি। দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের বিরুদ্ধে ডাকা ওই ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল দেশবাসী। শেষ পর্যন্ত বুধবার ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় পরিবহণ শ্রমিকরা। একই ভাবে বগুড়ায় শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা ধর্মঘটে যাবে কেন? নিঃসন্দেহে তারা দেশের অত্যন্ত মেধাবী সন্তান। তারা কেন নিয়ম-কানুনকে অবজ্ঞা করবে? ব্যক্তি, গোষ্ঠি যখন নিজেদের আইনের উর্ধে মনে করে তখনই কেবল এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ করা যায়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও পরিবহণ শ্রমিকদের আচরণের মধ্যেকার পার্থক্যটা আর থাকে না।
পেশাজীবীদের সংগঠনগুলোতে এমন ধারণ খুবই প্রবল যে, তাদের কর্মকা- চ্যালেঞ্জ করার বিষয় নয়।। তারা তাদের ইচ্ছে মত ধর্মঘট ডেকে দেশের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে পারে। এই অমানবিক কর্মকা-ে করতে তাদের আইনের আওতায় আনাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ দেশে পরিবহণ ধর্মঘটের সাথে সাথে চিকিৎসকদের ধর্মঘটের প্রবণতা মোটেও কম নয়। একটি গোষ্ঠি দেশের নিরীহ জনসাধারণকে জিম্মি করে এবং অন্য গোষ্ঠি মুমুর্ষ রোগিদের জিম্মি করে। দুটিই মানবাধিকার লঙ্ঘনের চূড়ান্ত ধৃষ্টতা। ওরা অপরাধ করবে অথচ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে নাÑ আর ব্যবস্থা নিলেই ধর্মঘট, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা। এই প্রবণতাকে আইন দ্বারা প্রতিহত করা যায় নি বলেই তা একটি দুর্বৃত্ত মানসিকতার জন্ম দিয়েছে। এর ফলে ওইসব গোষ্ঠির কাছে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা কোনো কঠিন কাজ নয়।
মহাজোট সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ যে, বগুড়ার ও চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লঘু হলেও একটা ব্যবস্থা নেয়া গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন। তারই প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই শাস্তির ব্যবস্থা নেয়। সহজেই অনুমেয় যে, ওই চার শিক্ষানবিশের ভবিষ্যত মাথায় রেখেই লঘু শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওই চার শিক্ষানবিশ তার পেশার মর্যাদা ক্ষুণœ করেছে তো বটেই অন্যদিকে শিশুর প্রতি নিপীড়ন চালিয়েছেÑ যা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তাদের দাম্ভিকতা ও জাত্যাভিমান এতই প্রবল যে, ওই চার অপরাধীর সমর্থনে অন্য শিক্ষানবিশরা বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কাউকে কিছু না জানিয়েই কর্ম থেকে বিরত আছেন। অর্থাৎ তারা এক শিশুর ওপর অন্যায় নিপীড়ন চালিয়ে কোনো অন্যায় করেনিÑ এমনই মানসিকতা। এই মিথ্যে অহংবোধ আমাদেরকে ক্রমশই অমানবিক- নিষ্ঠুর করে করে তুলছে। আইনের শাসনকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তুলছে। এই পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। বর্তমান সরকার সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, এই পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। আমরা মনে করি সরকারকে আরো দৃঢ় ও সাহসি ভূমিকা নিয়ে দুর্বৃত্ত মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। নিশ্চিতভাবে এ লড়াইয়ে জনগণ সরকারের পাশেই থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ