বগুড়ায় সরকারি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি


বগুড়ায় চুরি হওয়া নবজাতক । মায়ের আহাজারী- সোনার দেশ

বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনী ও প্রসূতি বিভাগ থেকে তিন দিন বয়সি এক নবজাতক চুরি হয়েছে। হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীর স্বজন সেজে এক তরুণী গতকাল শনিবার সকালে শিশুটি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ওই তরুণীর কোনও পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের ঝোপগাড়ি এলাকার রুবেল উদ্দিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হোসনে আরাকে গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) ভর্তি করা হয় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনী ও প্রসূতি বিভাগে। পরদিন বুধবার (২৯ মার্চ) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি শিশুসন্তান প্রসব করেন। হোসনে আরার পাশাপাশি নবজাতককে দেখভাল করছিলেন তার মা রেহেনা বেগম।
এদিকে, হাসপাতালের এক রোগীর স্বজন সেজে গত কয়েকদিন ধরেই ওই ওয়ার্ডে অবস্থান করছিলেন ২৫-২৬ বছর বয়সী এক তরুণী। হোসনে আরা ও তার মায়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন ওই তরুণী। শনিবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নবজাতককে নিয়ে বারান্দায় রোদ পোহাতে যান রেহেনা বেগম। ওই তরুণীও তার সঙ্গে যান। এসময় শিশুটি পায়খানা করলে শিশুটিকে তার কাছে রেখে রেহেনা বেগমকে ওই তরুণী কাপড় আনতে বলেন। রেহেনা বেগমও ওই তরুণীর কাছে শিশুকে রেখে কাপড় আনতে যান। ফিরে এসে ওই তরুণী বা নিজের নাতি কারও দেখাই পাননি রেহেনা বেগম। এরপর গোটা হাসপাতালে সন্ধান করেও আর পাওয়া যায়নি ওই নবজাতক বা ওই তরুণীকে। ওই তরুণীর পরিচয়ও কেউ বলতে পারেনি।
তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে অবহিত করা হয় ঘটনাটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গাইনি ওয়ার্ডে নোটিশ টানিয়ে দেয়, আপনার সন্তানকে অপরিচিত ব্যক্তির কাছে দেবেন না। সদর থানাতে খবর দিলে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু ওই নবজাতককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল দুপুরে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, নবজাতক সন্তানকে হারিয়ে আহাজারি করছেন হোসনে আরা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিবাহিত জীবন দেড় বছরের। এটাই আমাদের প্রথম সন্তান। মনে হচ্ছে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি।’ হোসনে আরা জানান, ওই তরুণী কয়েকদিন ধরেই তাদের সঙ্গে খাতির জমানোর চেষ্টা করেছে। শনিবার সকালে তার সন্তানকে রোদ পোহাতে নিয়ে গেলে কৌশলে ওই তরুণীই তার সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান হোসনে আরা।
নবজাতকের বাবা রুবেল উদ্দিন বলেন, ‘সংসারে প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ায় সবাই খুব খুশি ছিলাম। আজকেই (শনিবার) বাচ্চার নাম রাখার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ছেলে চুরি হয়ে গেল।’ তিনি মোবাইল ফোনে সন্তানের ছবি দেখিয়ে তাকে ফিরে পেতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
গাইনী বিভাগের নার্স ইনচার্জ সানজিদা বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রসূতিদের অনুরোধ করে থাকি, তারা যেন সন্তানদের কারও কাছে না দেন। এ ঘটনায় ১৫ নম্বর বেডের এক রোগীর স্বজনের জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ওই বেডে কোনও রোগীই ছিল না। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।’
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিধান চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘শিশু চুরির ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। শিশুটির বাবা রুবেল উদ্দিন থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আমরাও ওয়ার্ডের দেয়ালে সবাইকে সতর্ক থাকার নোটিশ দিয়েছি।’
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আসলাম আলী বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির ঘটনা জানার পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। শিশুটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছে পুলিশ। শিশুটির বাবা রুবেল উদ্দিন এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন।’