বগুড়া চার আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি


আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) দখলে থাকা ৩৯ বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। জামায়াত ঘেষা ও বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদের (ইনু) দখলে চলে যায় বগুড়া-৪ আসন।
বিএনপি না থাকায় ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী হাজী নুরুল আমিন বাচ্চু ও জাসদের (ইনু) মনোনীত রেজাউল করিম তানসেন ভোটযুদ্ধে অংশ নেন। ১৪ দলের নেতা রেজাউল করিম তানসেনের কাছে পরাজিত হন জাপার প্রার্থী হাজী বাচ্চু। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জেলা জাসদের সভাপতি রেজাউল করিম তানসেনকেই দাবি করে একটি নামের প্রার্থী তালিকা করেছেন জাসদের হাসানুল হক ইনু। বিভিন্ন গনমাধ্যম সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এবার জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী হবেন- জাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা যুব সংহতির সভাপতি শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক। বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাওলানা তায়েব আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।
অপরদিক, বেদখল হওয়া বগুড়া-৪ আসন দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। গনসংযোগ ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং নন্দীগ্রাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না। পাশাপাশি গনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন জিয়া শিশু ও কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন এবং নাশকতার ২০ মামলার আসামি জেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা। অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বিএনপির সাবেক দুই সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল ও ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। তাদেরকে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে আজতক পর্যন্ত দলীয় কর্মসূচি এবং নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায় নি বলে মন্তব্য করেছেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির যুগ্মসম্পাদক ওসমান গনি মাসুদ।
গত ১০ম সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সাবেক সাংসদ মোস্তফা আলী মুকুল ও নন্দীগ্রাম থানা বিএনপির সভাপতি একে আজাদ নিষ্ক্রিয় হলে এবং এলাকায় না থাকায় নেতাকর্মিদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা নেমে আসে। নেতাকর্মীরা ঘরমূখী হতে শুরু করে। দেলোয়ার হোসেন সাইদিকে চাঁদে দেখার গুজবে নাশকতা ও ভাঙচুর মামলায় ৩৫০ জনকে নামীয় আসামি এবং ১৪ হাজার ৫শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। এতে করে নন্দীগ্রাম উপজেলা ও কাহালু উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
তবে বিএনপির সাবেক সাংসদ মোস্তফা আলী মুকুল বলেন, খুব শিগগির গনসংযোগে যাবেন তিনি। অসুস্থ থাকায় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি নি। জিয়া শিশু ও কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয়সহ সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনীত করা হলে বগুড়া-৪ আসনটি পুনরুদ্ধার সম্ভব। আমি দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও এলাকায় কাজ করছি। আমিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। মোশারফ হোসেন বলেন, সাবেক সাংসদ সংস্কারপন্থি নেতা জিয়াউল হক মোল্লা দলের দূঃসময়ে দলের সঙ্গে বেঈমানি করার কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে আছে। নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ার ভয়ে আর কখনো এলাকায় আসতে পারবে বলে মনে হয় না। এই সংস্কারপন্থি নেতার প্রতি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ ও ঘৃনার সৃষ্টি হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবার মতো বিএনপির কোন নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সাবেক সাংসদ মোস্তফা আলী মকুল জনগণের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যায়। তাছাড়া তার কর্মকাণ্ডে এলাকায় বিতর্কিত হয়ে পড়েন। গোলাম রব্বানী বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিরোধী দলে যাওয়ার পর থেকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও নন্দীগ্রাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না দলীয় সকল কর্মসূচি পালন ও নেতাকর্মীদের পাশে সময় দিয়ে যাচ্ছেন। দলের দূঃসময়ে এই নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা মকাদ্দমাসহ সকল প্রকার সহযোগীতা করেছেন। অ্যাডভোকেট রাফি পান্না এলাকার নেতাকর্মি ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও মামলা মকাদ্দমার ব্যাপারে সহযোগিতা করার কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। রাফি পান্না নন্দীগ্রাম থানার ভাটরা ইউনিয়নের হাটধুমা গ্রামের সম্ভান্ত পরিবারে সন্তান। এই পরিবারে সকলেই জাতীয়তাবাদের ধারক ও বাহক।
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, এই এলাকায় আরো একজন নেতা জিয়া ও শিশু কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোশারফ হোসেন কাজ করে যাচ্ছেন। মোশারফ হোসেন পূরান ঢাকায় স্প্রিটের ব্যবসা করেন। ব্যবসার ফাকে মাঝেমধ্যে এলাকায় আসেন। এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং নন্দীগ্রাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না মুঠোফোনে বলেন, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের জন্য কাজ করা ইমানি দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।