বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবস

আপডেট: মার্চ ১৭, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

অধ্যাপক রাশেদা খালেক



মার্চ মাস স্বাধীনতার মাস। এই মাসের দু’টি দিন, দু’টি তারিখ বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং বাঙালি জাতির জীবনে ধ্রুবতারার মত জ্বল জ্বল করে জ্বলছে, আলো ছড়া”েছ, পথ দেখা”েছ। বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতি সেই আলোর পথ ধরে সামনের পানে এগিয়ে চলেছে। দিবস দু’টির একটি হ”েছ ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। অপরটি ১৭ মার্চ বাংলাদেশের ¯’পতি, জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবস। জাতির জীবনে  এ এক তাৎপর্যবহ গুরুত্বপূর্ণ দিন। আলোকিত আনন্দময় দিন।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিুবর রহমানের জন্ম হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। মা সায়রা খাতুন। পিতা পশখ মুহম্মদ লুৎফর রহমান। মুজিব ছিলেন বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সকলের চোখের মণি,আদরের ধন। আদর করে সকলে ‘খোকা’ বলে ডাকতো। ছেলেবেলায় খোকা ছিল দুরন্ত প্রকৃতির। ছোট্ট খোকা টুঙ্গিপাড়া গ্রাম, গ্রামের মানুষ, এর গাছপালা, ফসলিমাঠ ,বাইগার নদী, বাউরি বাতাস, উদার আকাশ সবকিছুকে বড় ভালবাসতেন। ভালবাসতেন বলেই সারাদিন টুঙ্গিপাড়ার মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াতেন, গাছে গাছে পাখির ছানা খুঁজে ফিরতেন আর বাইগার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এপার ওপার তোলপাড় করতেন। ভাল ফুটবল খেলতেন। গরীব সহপাঠীদের বই খাতা ছাতা গায়ের জামা চাদর এসব দিয়ে সাহায্য করতেন। দুর্ভিক্ষের সময় অভাবী মানুষদের ধানের গোলা খুলে ধান দিয়ে দিতেন। প্রচ- সাহসী ছিলেন। মার খেয়ে কখনো মাথা নিচু করে ঘরে ফেরেন নি। প্রকৃতিকে ভালবেসে মানুষকে ভালবেসে তিনি দেশকে ভালবাসতে শিখেছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন উদার ও মানবতাবাদী। সেই শৈশব থেকে তাঁর মধ্যে নেতৃত্বসুলভ আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
শেখ মুজিবুর রহমান কিশোর বয়সে স্কুলে পড়াকালীন রাজনীতির প্রথম পাঠ গ্রহণ করেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ও খাদ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কাছ থেকে। পরবর্তীকালে ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪ এর যুক্তফ”ন্ট নির্বাচন, ‘৬৬এর ছয়দফা আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০এর নির্বাচন এবং ‘৭১এর মুক্তিযুদ্ধ… এই যে স্বাধীনতা আন্দোলনের এক একটি ধাপ, একএকটি পর্যায় অর্থাৎ ১৯৪৮ হতে ১৯৭১ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সংগ্রামশীল পথে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও অসীম সাহস নিয়ে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন। সংগ্রাম করতে করতেই তিনি হয়ে উঠেছেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানিয়ে ‘৬৯এর ২৩ জানুয়রি রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষ ছাত্র জনতার সমাবেশে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধীতে ভূষিত করা হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাক-ভারত যুদ্ধকে কেন্দ্র করে লাহোরে এক সর্বদলীয় সম্মেলন আহবান করা হয়। সম্মেলনে আওয়ামী লীগ, মস্কোপš’ী ন্যাপসহ অন্যান্য দলের নেতারা উপ¯ি’ত ছিলেন। তবে মওলানা ভাসানী অনুপ¯ি’ত ছিলেন। সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান এক ব্যতিক্রমধর্মী বক্তৃতা দেন যা সকলকে বিস্মিত করেছিল। তিনি বলেছিলেন, ১৯৬৫ সালে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে দুই দফায় ১৭ দিন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে  যুদ্ধ চলেছে। এবং দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তিও হয়েছে তাসখন্দে। এই পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ১২শত মাইল দূরবর্তী পূর্বপাকিস্তান এতিমের মত সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। দেখবার কেউ ছিল না, খোঁজও কেউ নেয়নি। সে জন্য পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যাগুলোকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এখানকার ভৌগলিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে আওয়ামি লীগের পক্ষ থেকে তিনি ৬দফা দাবি প্রকাশ করেন। এই  ৬-দফায় পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে যে, কেবলমাত্র দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া অবশিষ্ট সমস্ত ক্ষমতা প্রদেশের উপর ছেড়ে দিতে হবে। এমনকি ২টি স্টেটব্যাংক স”ষ্টি এবং প”থকমুদ্রা চালু করা ছাড়াও সমস্ত রকমের কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের এখতেয়ারভুক্ত করতে হবে। সম্মেলনে এই দাবি প্রত্যাখিত হলে তিনি দলবল নিয়ে ওয়াকআউট করেন। লাহোর থেকে ফিরবার পথে বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে ৬-দফার ব্যাখ্যা স্বরূপ বলেন,-‘এটি হ”েছ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ’। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী গত ২০ বছর ধরে পূর্ববাংলার মানুষকে যে লাগামহীনভাবে শোষণ করছে- সেই শোষণ আর বঞ্চনা মোকাবেলা করার জন্য বাঙালির একমাত্র মুক্তির সনদ হ”েছ এই-৬ দফা। লাহোর থেকে ফিরবার পর শুরু হয় ছয়দফা আন্দোলন। এই ছয়দফা আন্দোলন করতে গিয়ে প্রতিটি জেলায় জেলায় জনমত গঠনের কাজ তাঁকে ঘুরতে হয়েছে এবং বার বার তাঁকে (৮ বার) জেলে যেতে হয়েছে। তাঁর ৫৪ বছরের জীবনে দীঘর্ ১৪টি বছরই তিনি জেলে কাটিয়েছেন। এ নিয়ে অবশ্য বঙ্গবন্ধুর কোন দুঃখ আফসোস ছিল না। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব এ সময় একদিকে যেমন ঘর-সংসার ,সন্তানদের সামলিয়েছেন অন্যদিকে দলের প্রতি খেয়াল রেখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সিদ্ধান্ত দিয়ে দলের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে জেলখানায় বসে সময় নষ্ট না করে লেখালেখির কাজ করবার পরামর্শ দিয়েছেন। কাগজ কলম দিয়ে এসেছেন। কারাগারে বসে বঙ্গবন্ধু নিজ জীবনের কথা লিখে গেছেন। পরবর্তীকালে এই লেখাগুলি সংগ্রহ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনী’-নামক গ্রš’টি প্রকাশ করেন। গ্রš’টি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক প্রামাণ্য দলিল। বইটি পড়ে  শেখ মুজিবকে যেমন জানা যায় তেমনি জানা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামগ্রী। শেখ মুজিব
বাঙালি জাতির হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে তিনি জাতিকে  উপহার দিয়েছেন মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ‘স্বাধীনতা’। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ যে অভিন্ন একই সূতোয় গাঁথা গ্রš’টি তারই পরিচয় বহন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হলে বোধকরি এত তাড়াতাড়ি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে আমরা পেতাম না ।
বঙ্গবন্ধুর শুভ জন্মদিনটি ‘জাতীয় শিশুদিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনের লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রতিটি স্কুলে, বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে, গণমাধ্যমে, আনন্দ অনুষ্ঠান, নাচ গান কবিতা আব”ত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে পালিত হয়ে আসছে। ফলে শিশু কিশোররা ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চিনবার জানবার সুযোগ পা”েছ। বঙ্গবন্ধুকে জানা মানে দেশকে জানা, দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও স্বাধীনতাকে জানা। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনা ও আদর্শকে বুকে ধারণ করে একজন দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী মানুষ হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলা।
বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোরদের বড় ভালবাসতেন। শিশুদের শিক্ষা- দীক্ষা, দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নানা পরিকল্পনা, নানা কর্মসূচি তিনি হাতে নিয়েছিলেন। শিশুদের কল্যাণের জন্য মায়েদের সম্প”ক্ত করে মা ও শিশু কল্যাণ অধিদপ্তর খোলা ও শিশু একাডেমি গড়ে তোলা এসবই তাঁর ভাবনার ফসল। শেখ মুজিব শৈশবে কৈশোরে  নিজে যেমন দুর্দান্ত স্বাধীনতা ভোগ করেছেন, বাঁধনছেঁড়া আনন্দে দিন কাটিয়েছেন তেমনই বাংলাদেশের শিশু কিশোররা যাতে হেসে খেলে মুক্ত চিন্তায় মুক্তমনে বেড়ে উঠবার পরিবেশ ও সুযোগ পায় সে কথাও তিনি ভেবেছেন।
জীবদ্দশায় ১৭ মার্চ তারিখে শিশুদের সম্প”ক্ত করে তিনি ভিন্ন মাত্রায় ভিন্ন আঙ্গিকে নিজের জন্মদিন পালনের চেষ্টা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জামাতা মরহুম ড.মুহম্মদ ওয়াজেদ মিয়া কথা প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন,‘রাসেল ছিল বঙ্গবন্ধুর কলিজার টুকরা। তিনি রাসেলকে এ দেশের সমস্ত শিশুর মডেল হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। প্রতিটি শিশুই তার পিতা মাতার কাছে বড় আদরের। এখানে কোন জাত-পাত, ধনী- গরীবের ভেদাভেদ নেই। আমাদের নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশটাকে ভালো করে গড়তে হলে এই শিশুদের সঠিকভাবে গড়তে হবে। ওদের তাজা রক্তে দেশপ্রেম ঢুকাতে হবে। ওদের ভালোমত গড়তে পারলেই আমি স্বার্থক। রাষ্ট্রীয় নীতিমালা পরিবর্তন করে অথবা আইন করে যা করা যাবে না। এই শিশুরা বড় হলে দেশ ও দেশের মানুষের সবদিকের মুক্তির জন্য তাই করবে। কিš’ সমস্যা হ”েছ সবখানেই ফাইল-নথি আর লালফিতার দৌরাত্ম্য। কিছুই ঠিকমত করা যায় না’। শিশুদের প্রতি কতখানি দরদ ও ভালোবাসা থাকলে একজন রাষ্ট্রপতি হয়ে এমন কথা বলতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়।
রোকনুজ্জামান দাদাভাই যিনি শিশুদের নিয়ে সারাজীবন কাজ করেছেন তিনি বলেছেন, শিশুদের জন্য আয়োজিত প্রায় সকল অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে দেখা যেত। তিনি বলতেন,‘শিশু হও ,শিশুর মত হও। শিশুর মত হাসতে শেখো। দুনিয়ার ভালোবাসা পাবে’। আসলে বঙ্গবন্ধু ছিলেন শিশুর মত সহজ সরল মানুষ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কুটিলতা, প্রতিহিংসা পরাণয়তা এসব তিনি কম বুঝতেন। রোকনুজ্জামান দাদা ভাইয়ের লেখা থেকে আরো জানা যায়,-১৯৬৩ সালের শীতকালে ঢাকা প্রেসকাব প্রাঙ্গণে ১০দিনব্যাপি  এক শিশুমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত শিশুমেলায় বঙ্গবন্ধু ছোট্ট সোনামণিদের সাথে আনন্দে দিন কাটা”িছলেন। তখনও তাঁর পেছনে গোয়েন্দা লাগানো ছিল। মজার ব্যাপার হলো, সেই আনন্দমেলায় প্রতিটি কার্যক্রমই ছোটদের দ্বারা পরিচালিত হতো। তাদের মধ্যেও গোয়েন্দা ছিল, পুলিশ ছিল। এই ছোট গোয়েন্দাদের হাতে সরকারি সেই ঝানু গোয়েন্দা ধরা পড়েছিল।
১৯৭২ সালে ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু ৫ দিনের সরকারি সফরে সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন। সে সময় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের পরামর্শক্রমে দাদাভাই রোকনুজ্জামান খান মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, খানসেনা ও রাজাকারদের অত্যাচারের দ”শ্য নিয়ে ৫ থেকে ১২ বছরের ১৫/১৬ জন শিশুর আঁকা ছবি প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভকে উপহার স্বরূপ দেবার জন্য গণভবন ‘সুগন্ধায়’ যান এবং বঙ্গবন্ধুর হাতে ছবিগুলি তুলে দেন। শিশুদের আঁকা ছবি ও তার বিষয়ব¯’ দেখে তিনি মু” হন, শিল্পী শিশুদেরদের কাছে ডেকে খুব আদর করেন। এবং এই মহৎ উদ্যোগ নেবার জন্য সঙ্গে আসা দাদাভাইসহ ড. আবদুল্লাহ আলমুতী শরফুদ্দিন ও লুৎফুল হায়দার চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন,‘আজকের এই কর্মব্যস্ত দিনের মধ্যে এই একটুখানি সময়ের জন্য আমি শান্তি পেলাম। এই শিশুদের সান্নিধ্য আমার সব দুঃখ অবসাদকে ভুলিয়ে দিয়েছে ’।
১৯৭৪ সালে গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে শিশুপার্কে আয়োজিত ‘শিশুমেলা’ অনুষ্ঠিত হবার পর শিশুরা বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য গণভবনে গেলে বঙ্গবন্ধু তাদের পরিবেশিত কুচকাওয়াজ ও খেলধুলা দেখে খুব আনন্দ ও তৃপ্তিলাভ করেন। সবার হাতে মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিতে দিতে তাদের নাম শুনলেন। একটি শিশু তার নাম মুজিবুর রহমান বলায় বঙ্গবন্ধু তাকে আদর করে কোলে তুলে নিয়ে বললেন, ‘পেয়েছি, আমি আমার মিতাকে পেয়েছি’।
১৯৭৫ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেষবারের মত শিশুদের সাথে কাটাবার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেদিন শেরেবাংলা নগরের নতুন গণভবনে বঙ্গবন্ধুকে জন্মদিনের শুভে”ছা জানাতে বয়স্কাউট, গার্লসগাইড, কচিকাঁচার মেলা ও খেলাঘর আসরের ৮০০জন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে উপ¯ি’ত হয়েছিল। প্রতিটি সংগঠন তার নিজ নিজ ইউনিফর্ম পরেছিল। সেদিনের সেই সবুজ চত্বরে বিভিন্ন রঙের সমারোহে মনোরম পরিবেশে বঙ্গবন্ধু প্রটোকলের সকল বেড়া ভেঙে শিশুদের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। শিশুদের সাথে এই মহামিলনের দ”শ্য বাঙালি জাতি  আর কখনো দেখতে পায় নি,পাবেও না। এরপর আর কোন  শিশুর ভাগ্যে জোটেনি এমন সৌভাগ্যময়  গর্বিত দিন । সব শেষ হয়ে গেল ঘাতকের বুলেটের আঘাতে।
শেখ মুজিব শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে গরিবের পেটে ভাত ও মুখে হাসি ফুটিয়ে দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা করে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যা”িছলেন কিš’ ঘাতকের দল সেই সুযোগ তাঁকে দেয় নি।তিনি দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট গভীর রাতে একদল বিপথগামী ক্ষমতালোভী পরাজিত সেনাসদস্য বঙ্গবন্ধুকে  সপরিবারে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।১৫ আগস্ট তাই বাঙালি জাতির জীবনে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় শোকাবহ কান্নাভেজা দিন।হত্যাকারি ঘাতকেরা ভেবেছিল শেখ মুজিবকে হত্যা করলেই বুঝি সব শেষ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের বুক থেকে তার নাম নিশানা মুছে ফেলা যাবে।কিনতু তা যে হয় নি, কোন কালেই হবার নয়, তা সকলেরই জানা হয়ে গেছে,বোঝা হয়ে গেছে। মনে রাখা উচিৎ বঙ্গবন্ধু ৯৭ বছর আগে জন্মেছিলেন। ৪২ বছর আগে সাহাদৎ বরণ করেছেন।এই ৪২ বছর ধরে বাঙালির অন্তরে অন্তরে,ব”ক্ষের পাতায় পাতায়,বাংলার ধূলি মাটির কণায় কণায়,আকাশের তারায় তারায়, নদীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে শেখ মুজিবের নাম নিরন্তর উ”চারিত হয়ে চলেছে।বাঙালি যতদিন মাথা উঁচিয়ে লাল সবুজের পতাকা উড়াবে,মধুরস্বরে গাইবে জাতীয় সঙ্গীত‘আমার সোনারবাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন এই বাংলায়।বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় শিশুদের নিয়ে  জন্মদিন পালন করবার এক চমৎকার  ইতিহাস রচনা করে গেছেন। তাই যতদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন এই বাংলায় ,ততদিন তাঁর জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে,আনন্দের সাথে  ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসাবে পালিত হবে। শিশুরা  হয়ে উঠবে এক একজন মুক্তি সেনা,মুজিব সেনা।ওরাই ধরবে বাংলার হাল,তুলবে পাল।র্ততরিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ সামনের পানে।তাই আর নেই ভয়, হবেই হবে বাংলার জয়।
লেখক: চেয়ারম্যন, ট্রাস্টি বোর্ড, নর্থবেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি