বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পায় রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২১, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর এই প্রত্যাবর্তনের ফলে বাংলাদেশ দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অন্যান্য সংস্থা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ: রোববার (১০ জানুয়ারি) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগর যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে। কর্মসূচিসমূহের মধ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, মাইকযোগে নগরীতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার, সকাল ১০.৩০টায় দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধু সহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহীন আকতার রেনী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন।
সভাপতির বক্তব্যে এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় তৎকালিন রেসকোর্স ময়াদনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্যে দিয়ে তাদের পরাজয় স্বীকার করেছিলো। যার মধ্যে দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ লাভ করে। বাঙালি স্বীকৃতি পেয়েছিলো বীরের জাতি হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে লক্ষ লক্ষ জনতা হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় বরণ করে নেয়। সেদিন ঢাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষ সমাবেত হয়েছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে এক নজর দেখার জন্য এবং নেতার বক্তব্য শোনার জন্য।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র তিন বছর সাত মাস দেশ পরিচালনা করেছিলেন। তিনি দেশ পূর্ণগঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছিলেন ঠিক তখনই ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র শুরু করে দিলো। সেইসময় একদিকে জাসদ গণবাহিনী গঠন করে গুপ্ত হত্যা, এদেশীয় পাকিস্তানি এজেন্ট রাজাকার-আলবদররা মুসলিম বাংলা কায়েমের নামে দেশে নানান ষড়যন্ত্র মেতে উঠল। পাটের গুদামে আগুন দেয়া, খাদ্য মজুদ করে খাদ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার নানান চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিলো। ইদের নামাজে বোমা হামলা করে মানুষ হত্যা ও কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের এমপিকে হত্যা করে দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলো এই স্বাধীনতা বিরোধীরা। ঐ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা সু-কৌশলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছিলো।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া’র পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছিলো। স্বাধীনতার পরে মানিক মিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে সেই পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে সংবাদ পরিবেশ করে মানিক মিয়া’র কু-সন্তান মইনুল হোসেন এর প্রত্যক্ষ মদদে। কুড়িগ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন বাসন্তি’র শরীরে মাছ ধরার জাল পড়িয়ে দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো নোংড়ামিতে মেতে উঠে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। তাদের এহেন কর্মকান্ডই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ক্ষেত্র তৈরী করে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করে। যার নেপথ্যের নায়ক ছিলো মেজর জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদেই সেনাবাহিনীর উশৃঙ্খল সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার দায় এড়াতে পারে না। কারণ জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সুবিধাভোগী।
তিনি আরও বলেন, একসময় যারা বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ হিসেবে কটুক্তি করতো, আজকে তারা বাংলাদেশের উন্নয়নে সমীহ করছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ একটি বিস্ময়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আজ বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যার কারণে ঐ পাকিস্তানিরা, যারা আমাদের দেশকে শোষণ করেছিলো, আমাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলো, ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছিলো, তিন লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানী করেছিলো, সেই পাকিস্তানির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যখন বলেন, আমাকে একটি বাংলাদেশ বানিয়ে দাও। তার এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে লক্ষ লক্ষ আত্মদান করেছিলো, তাঁদের আত্মা শান্তি পেয়েছে। এটাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা, জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আমাদের অর্জন।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরও অনেক আগেই বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নত দেশে রুপান্তরিত হতো। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছিলো। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বলে কিছু ছিলো না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলার মানুষ গণতন্ত্র এবং ভোট ও ভাতের অধিকার পেয়েছে। তারা গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণমুক্ত সোনার বাংলা কায়েম হয়েছে। অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে রুপান্তরিত হবে। যার যাত্রা অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হাতকে শক্তিশালী করার জন্য নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হয়ে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। দলীয় নেতৃত্বের ভুল-ক্রুটি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা আহ্বান জানিসয়ে বলেন, জনসম্মুক্ষে নেতৃত্বের সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দল ও নেতৃত্বের ক্ষতি হয় এমন কোন বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত না করার আহ্বান জানান।
ডাবলু সরকার বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাঙ্গালী স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করেছিলো। ৮ জানুয়ারি তখনও বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিলো। তিনি ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী’র প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরে বাঙ্গালী জাতি বিজয়ী হয়েছিলো। সেই যুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে হয়েছিলো। ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে নেমে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে দেখে উপস্থিত মানুষেরা আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। তখন সকলেই আশাবাদী হয়েছিলো এই নেতাই একদিন সোনার বাংলাদেশ গড়বেন। এখন তাঁরই কন্যা, জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই দিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, অবাঙ্গালী সকলেই আমার ভাই ও বোন। তাদের রক্ষা করতে হবে। তাই হয়ত আজও বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি এজেন্টরা বহাল তবিয়তে বাসবাস করছেন, বঙ্গবন্ধুর কারণেই। এটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।
তিনি আরও বলেন, তৎকালিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ব্যঙ্গ করে তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যায়িত করেছিলেন। আজ সেই হেনরি কিসিঞ্জার তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। আমরা আশাবাদী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তাঁরই কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, মাহফুজুল আলম লোটন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, রেজাউল ইসলাম বাবুল, ডাঃ তবিবুর রহমান শেখ, নাঈমুল হুদা রানা, বদরুজ্জামান খায়ের, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আসাদুজ্জামান আজাদ, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম বুলবুল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, ধর্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রবিউল আলম রবি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান রাজা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক ওমর শরীফ রাজিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডাঃ ফ ম আ জাহিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক পংকজ দে, কোষাধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ ডলার, সদস্য এনামুল হক কলিন্স, মোশফিকুর রহমান হসনাত, আশরাফ উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুল মান্নান, আব্দুস সালাম, ইসমাইল হোসেন, মজিবুর রহমান, ইউনুস আলী, অ্যাড. রাশেদ-উন-নবী আহসান, মাসুদ আহম্মেদ, কে এম জুয়েল জামান, আলিমুল হাসান সজল, খায়রুল বাশার শাহীন, আশীষ তরু দে সরকার অর্পণ, থানা আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজপাড়ার সাধারণ সম্পাদক শেখ আনসারুল হক খিচ্চু, বোয়ালিয়া (পূর্ব) এর সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, বোয়ালিয়া (পশ্চিম) এর সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান রতন, মতিহারের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, বাংলাদেশের যুব মহিলা লীগের সদস্য মালিহা জামান মালা, নগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বাচ্চু, নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সালমা রেজা, সাধারণ সম্পাদক কানিজ ফাতেমা মিতু, নগর কৃষক লীগ সভাপতি রহমতউল্লাহ্ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাকির হোসেন বাবু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, নগর যুব মহিলা লীগ সভাপতি অ্যাড. ইসমত আরা, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি রকি কুমার ঘোষ সহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ : রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের অয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিস্তর কর্মসূচি পালন করেছে।
রোববার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় রাজশাহী কলেজে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাগমারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জকিরুল ইসলাম সান্টু , আওয়ামী লীগ নেতা এড. আব্দুস সামাদ মোল্লাসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । পরে জাতির পিতার প্রতি স্মরণে এক মিনিট পালন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ: দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী জেলা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মহানগর কমান্ডারের সকাল ১০ টায় শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরস্থ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে পতাকা উত্তোলন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলর নেতা এ্যাড. মতিউর রহমান, জেলা ইউনিটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার শাহাদুল হক, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কে.এম.এম.ইয়াসিন আলী মোল্লা, মহানগর ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ডা.আ.মান্নান, ডেপুটি কমান্ডার রবিউল ইসলামসহ জেলা ও মহানগর ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে বিকেল ৪ টায় সংসদ কার্যালয়ে মহানগর সাবেক কমান্ডার ডা.আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (১০ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। এই মহান নেতার অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত জয়ের উল্লাস-উদ্দীপনায় যা অপূর্ণ ছিল, ১০ জানুয়ারি বাংলার মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে স্বদেশে ফিরে পাওয়ায় তা পূর্ণতা পায়। বঙ্গবন্ধু যে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের ভূমিকা রাখতে হবে। এসময় তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বদেশ প্রতাবর্তন দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে হলেও ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (রুয়েট) এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে রুয়েটের অসহায় কর্মচারীদের মাঝে শীতবস্ত্র ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে রুয়েট ক্যাফেটারিয়ায় এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠানে রুয়েটের ১শ ৫জন কর্মচারীকে শীতবস্ত্র কম্বল ও সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র লিটন বলেন, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার হতে মুক্তিলাভ করে রক্ত¯œাত ও সদ্য স্বাধীন যুদ্ধ-বিধস্ত এ বাংলাদেশে। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর বাহনে চেপে মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় প্রিয় মাতৃভূমিতে অবতরণ করেন তিনি। তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর মুহূর্ত। একদিকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বজন হারানোর বেদনা ও শোক অন্যদিকে নানা শংকা ও হতাশার মাঝে আলো হিসেবে আগমন ঘটে প্রিয় নেতার। তাই বিমানবন্দর হতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভামঞ্চ পর্যন্ত দেখা দেয় জনসমুদ্রের ঢেউ। সর্র্র্র্বকালের সর্ববৃহৎ এই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল খুবই হৃদয়স্পর্শী। ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে রেস কোর্স ময়দানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বজ্র কণ্ঠে উচ্চারণ করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ২৫ মার্চ কালরাত্রে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি নিধনযজ্ঞের নীলনকশা অপারেশন সার্চলাইট এর মাধ্যমে গণহত্যা শুরু করে। এ প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দেন। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়েই বিজয়ের পূর্ণতা লাভ করে এ জাতি। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সদ্য স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তনের পর রেসকোর্স ময়দানে সমবেত লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেন ‘ আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার সোনার বাংলা আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।
মেয়র আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তার আদর্শ মুছে দিতে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে অপচেষ্টা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ৩রা নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাসকে বিকৃত করেছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে। সরকার গঠণের পর থেকেই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রুয়েটের সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম শেখ। বক্তব্য দেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. রবিউল আওয়াল।
অনুষ্ঠানে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপ-পরিচালক প্রফেসর মামুনুর রশীদ, রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু ও রুয়েট ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মেয়র লিটন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে রুয়েট ক্যাম্পাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পুস্পস্তবক অর্পণকালে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম শেখ, রুয়েটের শিক্ষক ও ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি: নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে যথাযাগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত করেছে। রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জোনাব আলী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ও প্রক্টর ড. আজিবার রহমান, আইন বিভাগের প্রধান ড. নাসরিন লুবনা প্রমুখ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আয়োজনে সকাল ১০ টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বোর্ড চত্বরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোকবুল হোসেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বাদশা হোসেন, প্রমুখ।
রাকাব: দুপুর একটায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর প্রধান কার্যালয় চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। মহাব্যবস্থাপক কামিল বুরহান ফিরদৌস, রাকাব প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক, বিভাগীয় প্রধান; এইসিপি’র প্রকল্প পরিচালক; ব্যবস্থাপক, স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়, কর্মচারী সংসদ (সিবিএ) এর নেতৃবৃন্দসহ ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। একই সময় রাকাব কর্মচারী সংসদ (সিবিএ) এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি এস এম আব্দুল হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ফজলে রাব্বী প্রমুখ।
রাজশাহী কলেজ: দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে ভার্চুয়াল সেমিনারসহ বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর সৃজনশীল লেখা নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের নির্মিত দেয়ালিকা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেয়ালিকা উৎসব উদ্বোধন করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা.আব্দুল খালেক, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. জুবাইদা আয়েশা সিদ্দীকা, প্রাক্তন সম্পাদক প্রফেসর পিযুষ কান্তি ফৌজদার এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড.ইব্রাহিম আলী।
উদ্বোধনে অধ্যক্ষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও লালন করার জন্য একটা মাইল ফলক হিসেবে দেয়ালিকাগুলো শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখা : বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী মহানগরের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর মো. নূরল আলম। আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জনাব এনামুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি শাহনাওয়াজ প্রামানিক সুমন,কবি মজিদা বীথি, সঙ্গীত পরিবেশন করেন আখতার বানু বীণা।
আলোচবৃন্দ আজকের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন। সাম্প্রদায়িক শক্তি আস্ফালন এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতি ধিক্কার জানানো হয় এবংএদের প্রতি কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেবার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানানো হয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ :রাজশাহীর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। রোববার দুপুর ২টায় নগরীর এ কমিউনিটি সেন্টারে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কেন্দ্রিয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের হিউম্যান রাইটস্ এন্ড লিগ্যাল এইন কমিটির চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কেন্দ্রিয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান বাদল।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. নুরুল ইসলাম সরকার( আসলাম সরকার), রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাক এ্যাড. এজাজুল হক মানু, রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের আইন সম্পাদক এ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. মতিউর রহমান, এ্যাড. বজলে তৌহিদ আল হাসান বাবলা প্রমূখ। সভা পরিচালনা করেন এ্যাড. নাসরিন আখতার মিতা। সভায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ কানপাড়া: দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ-মুক্তিযুদ্ধ-৭১ নিজ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। পরবর্তি কমসূিচ অনুযায়ী বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’র সভাপতি আবুল হাসান খন্দকারের সভাপতিত্বে শিরোইল রেলওয়ে সুপার মার্কেটস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তব্য দেন, সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারী সিরাজুল ইসলাম, রাকাব কমান্ডার আল-মাহমুদ, রেলওয়ে কমান্ডার ওবায়দুর রহমান, সংগঠনের নেতা যথাক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম মাহবুব আলম, আমজাদ হোসেন বয়েন উদ্দীন, আনিসুর রহমান(পোরশা), অফিস সেক্রেটারী রমেশ চন্দ্র প্রাং এবং কানপাড়া আঞ্চলিক কমিটির সেক্রেটারী তছের আলী মাষ্টার ও ডা. ইয়াদ আলী প্রমূখ।
আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগ: দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগ নগর শাখার নিজ কার্যালয়ে পতাকা উত্তেলন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতে পুষ্পমাল্য অর্পন কর্মসূিচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহানের সভাপতিত্বে আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, নগর শাখার সেক্রেটারী মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী প্রাং, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ(আয়কর), অফিস সেক্রেটারী বাবু উপেন্দ দাস প্রমূখ।
মহানগর সৈনিক লীগের:দিবসটি উপলক্ষে মহানগর সৈনিক লীগের রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসে বঙ্গবন্ধু চত্তরে কাদিরগঞ্জে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান এর সমাধীস্তলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ক সুমন চৌধুরী, আইয়ুব আলী, খাজা খালেদ লিজার, এজাজ আহম্মেদ পিন্টু, শেখ ইমরান মিয়া, শাহিন ও শাহাদত হোসেন প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ