বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষ আটক

আপডেট: মার্চ ২০, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নীরেন্দ্রনাথ সাহার কাছে আদালতের কাগজ দেখাতে গেলে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি সাহাদুল মাস্টারকে লাঞ্ছিত করে। এই নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে গত শনিবার কলেজ শিক্ষক মাহমুদ আকতার গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সাহাদুল হকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়। পরবর্তীতে ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে ১৪ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করে সাহাদুল হক। শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নিরেন্দ্রনাথ সাহাকে আটক করে। তবে ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, কে বা কারা ছবি ভাঙচুর করেছে তা তার জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে সাহাদুল হক বলেন, ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজাবাড়ী কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আর ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম অবসরে গেলে কলেজের সিনিয়র শিক্ষক নিরেন্দ্রনাথ সাহা (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আমাকে সভাপতি হিসেবে নবায়ন না করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা আইটি) সভাপতি করে একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এরপর উচ্চআদালতে গেলে আদালত আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করে ২০১৭ সালে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাকে সভাপতি রেখে একটি আদেশ জারি করে। আদালতের আদেশের কপি নিয়ে গেলে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নীরেন্দ্রনাথ সাহার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে কলেজের শিক্ষক মাহমুদ আকতারসহ কয়েকজন মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এই নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সাহাদুল হক অভিযোগ করে বলেন, তাকে ও এলাকাবাসীকে ফাঁসাতে অধ্যক্ষসহ (ভারপ্রাপ্ত) কয়েকজন শিক্ষক নিজেরাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে। এর প্রতিবাদে গত শনিবার রাজাবাড়ীহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সী বলেন, ঘটনার দিন (১৬ মার্চ) ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। ওইদিন ছবি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে নি। অধ্যক্ষের কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙানো ছিল। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে তালাবন্ধ থাকে। প্রাথমিকভাবে ছবি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে অধ্যক্ষকে (ভারপ্রাপ্ত) আটক করা হয়েছে।
ওসি আরো জানান, পুরো ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) একরামুল হক ও থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ