বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির অহংকার

আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০১৭, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মো. বুরহানুল ইসলাম


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের নয় সারা বিশ্বে একটি পরিচিত নাম। আমরা যে দেশকে নিয়ে গর্ব করি এটা তাঁরই আন্দোলনের ফসল। পৃথিবীতে বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বাংলাদেশের জাতির পিতা বা বাংলার স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম স্বর্ণাক্ষরে বাংলার ইতিহাসে লেখা থাকবে। যুগে যুগে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যক্তির আবির্ভাব হয়। সাহিত্যাঙ্গনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতির জনক হিসেবে, মহাত্মা গান্ধি, কায়েদে আযম, কামাল আতর্তুক, মাও সেতুং, লেনিন। বাংলাদেশে বাঙালি জাতির মুক্তির জনক বঙ্গবন্ধু। অনেক কষ্ট ত্যাগ, তিতিক্ষার পর স্বাধীন বাংলাদেশের নৃপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ফল বেশিদিন ভোগ করতে না পারলেও তাঁরর উত্তসূরিগণ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। বঙ্গবন্ধু জীবিত না থাকলেও দেশ জাতি আত্মত্যাগের জন্য তাঁকে আমরা গর্বভরে স্মরণ করি। তিনি ছিনিয়ে এনেছিলেন এই মাতৃকার পূণ্যভূমির অস্তিত্ব আর অহংকার।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
মিশনারি স্কুলে লেখাপড়া করার সময় থেকে বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। এরপর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৪২ সালে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগদান এবং ১৯৪৩ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এর পর থেকে রাজনীতি থেকে সরে যাননি, হাজারো প্রতিবন্ধকতার পরেও দুর্বার গতিতে তিনি এগিয়ে যান।
পাকিস্তান, ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে এসে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম ছাত্রলীগে ৪ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে যোগদান করে প্রধান ছাত্র নেতায় পরিণত হন।
বাংলাদেশের নাম করণ :
১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওর্দীর মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে এদেশের নাম করণ ‘বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেন।
আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিমলীগ। দলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। তিনি ১৯৫৩ সালের ১৬ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।
মন্ত্রিত্ব লাভ
১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগুরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় পরিষদ ভোটে বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকে জয়লাভ করেন। ১৪ মে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রধান নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল মো. আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবরে দেশে সামরিক আইন জারি করে নিষিদ্ধ করেন সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে আটক করা হয়। ১৯৬১ সালে তিনি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গঠন করেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে একটি সংগঠন। এরপর থেকেই তিনি পূর্বপাকিস্তানের গণমানুষের নেতা।
৬ দফা দাবী :
পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দল সমূহের এক জাতীয় সম্মেলন ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ওই সম্মেলনে ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফাই বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সনদ। ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ১৯৬৬ সালের ৬ জুন পূর্ব বাংলায় ডাক দেয় হরতাল। এই হরতালে সরকার কারফিউ জারি করে এবং হরতাল চলাকালে পুলিশ এবং ইপিআর সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করে, গ্রেফতার করে হাজার হাজার মানুষকে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও গণঅভ্যুত্থান
১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু, সিএসপি ও সামরিক কর্মকর্তাসহ ৩৪ জন বাঙালির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সুপরিচিত। মামলার মূল বিষয় ছিল বঙ্গবন্ধু সহ এ সকল কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে পাকিস্তান বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনার অভিযোগ। পাকিস্তান বিভাগের ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী বঙ্গবন্ধুকে এ মামলায় এক নম্বর আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। গঠিত ট্রাইব্যুনাল সেনানিবাসের অধীনে ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হয়। মামলার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সারা দেশব্যাপি প্রতিবাদের ঝড় উঠে। আগরতলা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপি ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। গড়ে উঠে গণআন্দোলন, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলা প্রত্যাহার করে। বঙ্গবন্ধু সহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়।
বঙ্গবন্ধু উপাধি
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এক বিশাল জনসভা সভার সভাপতি ছাত্র নেতা তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমদ সমবেত ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মান সূচক ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়।
৭০ এর নির্বাচন ও পাকিস্তানের ভাঙন
১৯৭০ সালে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় এবং প্রাদেশিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেন। পশ্চিম পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টু। জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে না দেয়ার ফলে সূচনা হয় পাকিস্তানের ভাঙন। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ভাষণে সাধারণ জনগণ উজ্জীবিত হয়ে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠির শাসন শোষনে অতিষ্ঠ হয়ে ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ৯০ ভাগ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন।
৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতা ঘোষণা
পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে (জাতীয় পরিষদ) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
যার সার কথা-
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
জয় বাংলা।’
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। ঘোষণাটি চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও শাসন ক্ষমতা গ্রহণ
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে অস্থায়ী সরকর গঠন করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাষ্ট্রপতি পরে ১৯৭২ সালে ১২ জানুয়ারি সংসদীয় শাসন কাঠামোয় প্রত্যাবর্তন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পূর্ণোদ্যোমে শক্তি সাহস নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
জাতির জনক
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ কালে বাংলাদেশের ‘জাতির জনক’ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করেন।
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাঙালি জাতির ত্রাতা, বাঙালির মুক্তির মুক্তিদান ও জীবন বোধের পরিচয়, বিশ্বের দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানোর নেতা। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর একজন কর্মবীর ও কালজয়ী পুরুষ, ইতিহাস সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব। তাঁর উৎস ‘জয়বাংলা’ জয়ধ্বনি। তাই বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে শেখ মুজিবকে বাংলার মানুষ বরণ করেছে। জাতির ত্রাতা- তাঁকে পিতৃত্বের মর্যাদায় আসীন করেছে হৃদয় হতে উৎসারিত ভালবাসা দিয়ে; তিনি হলেন- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
বিবিসি বাংলার শ্রোতা জরিপে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল সর্বকালের “সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি” হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি ছিলেন বাংলার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টানের অসাম্প্রদায়িক নেতা।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা
বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আত্ম সম্মোহনি ভাষণে আপামোর জন সাধারণ উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি করার জন্য জীবনবাজি রেখে স্বেচ্ছায় মুক্তি বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৫ ডিসেম্বর একটানা ৯ মাস যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এদেশে মুক্ত ও পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। সকল কিছুর মূলে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর দুরদর্শিতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব।
জননেতা বঙ্গবন্ধু
বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যাধুনিক জনপ্রিয় জননেতা। এবং বাংলার জনগণের অত্যন্ত প্রাণপ্রিয় মানুষ। তিনিও আপামর জনগণকে অত্যধিক ভাল বাসতেন বলেই নিজ দলের নেতা কর্মীদের সমালোচনায় বলেছিলেন, ‘সকলে পেয়েছে সোনার খনি। আমি পেয়েছি চোরের খনি।’ তিনি জনসাধারণের সুবিধার জন্য আদেশ দেন ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ। ১০০ বিঘার অধিক জমি বাজেয়াপ্ত করে, ভূমিহীন কৃষকের মধ্যে বিতরণ করেন।
বিশ্ব শান্তি পুরস্কার
নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সংগ্রাম তথা বিশ্ব শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য বিশ্বশান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক পুরস্কার ‘জুলিও কুরি’ পদক বিশ্ব শান্তি পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল ২৩ ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদান করেন।
বাঙালি জাতির গর্ব ও অহংকার
৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তাণ্ডব, ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগ ও মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি পাচ্ছে। ১৯৭১ সালের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এর মূল চালিকাশক্তি হল সফল নেতৃত্ব। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ভঙ্গুর দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন নেতার যে সকল গুণাবলির প্রয়োজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল। বাংলাদেশ এখন অবজ্ঞা ও অবহেলার দেশ নয়, বিশ্বে পরিচিত পায় মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে।
একবুক স্বপ্ন আর সাহস নিয়ে যে মানুষটি ছিনিয়ে এনেছিলেন এই পূণ্যভূমির অস্তিত্ব আর অহংকারÑ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে নিজ বাড়িতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সেই সোনালি ইতিহাসকে রক্তাক্ত করেছে ঘাতকরা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, মুক্তিযুদ্ধ, গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র মহানায়ক বঙ্গবন্ধু আমরা তোমাকে ভুলবো না।
লেখক: কলামিস্ট