বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততা কমিশনের মাধ্যমে জনসম্মুখে আনা হবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গকে হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এ উদ্দেশ্যে গঠিত কমিশনের মাধ্যমে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে সরকারি আবাসিক অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন।
সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটা দিনের আলোর মতো সত্য জিয়াউর রহমান এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন তাহলে যখন এ মামলার তদন্ত হয়, তখন তাকে আসামি করা হয়নি কেন? আপনারা জানেন, জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে তারই লোকদের মারফত হত্যার শিকার হয়েছে। যেহেতু তিনি মৃত, তাকে আসামি করার সুযোগ নেই। আমাদের আইনে মরণোত্তর সাজা দেওয়ার কোনও বিধান নাই। সে জন্য আইনের বাইরে গিয়ে শুধু তামাশা করার জন্য একজনকে সাজা দেবো না। কিন্তু এই হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত থাকার যে সাক্ষ্য-প্রমাণ, এই কমিশনের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ জনসম্মুখে আমরা উপস্থাপন করবো।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক মোসলেম উদ্দিন ভারতে পলাতক আছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, মোসলেম উদ্দিনের বিষয়ে একটা কথা আসছিল, আমরা এটা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, এখন পর্যন্ত এর সত্যতা আমরা পাইনি।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে দেশে ন্যায়বিচারে আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এখন যে আইনগুলো হয়, সেগুলো কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পর থেকে যে আদলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যে ভিত্তি তিনি স্থাপন করে গেছেন, আমরা এখন আইনগুলোকে সেই আদর্শ এবং সেই ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই তৈরি করি।
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ও ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় উন্মোচন করতে কমিশন গঠনের বিষয়টি বারবার আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা—তার জবাবে মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসেবামূলক সরকারের আমলের কথাই বলছি। প্রথম হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলা শেষ করা এবং পলাতক আসামিদের সাজা কার্যকর করতে তাদের ফিরিয়ে আনা। আলাপ-আলোচনার মধ্যে থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে আসছে। এখন জনসম্মুখে স্পষ্টতার জন্য, যারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তারা যে এককভাবে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা নয়, এর পিছনে একটা ষড়যন্ত্র আছে, সেই ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের অন্তত চিহ্নিত করে তাদের নাম জানিয়ে দেওয়া। এখন এই চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটা কি হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে আপনারা দেখেছেন, ২০২০ সালের মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে কিন্তু স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে। আমরা যে রূপরেখা তৈরি করেছি সেটা কিন্তু এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারিনি। যখনই করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে তখনই কমিশনের রূপরেখা কি হবে, কমিশনের কার্যাবলি কি হবে, কাদের দ্বারা গঠিত হবে সেটি দেখতে পাবেন।
বিদেশে পলাতক দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের কোনও ঘাটতি আছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আলাপ করায় প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে খুনের দায়ে সর্বোচ্চ আদালত থেকে যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, এরমধ্যে যারা পলাতক রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।
শুধু সরকার নয়, আওয়ামী লীগ যতক্ষণ থাকবে, আমার মনে হয় বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী একজন থাকলেও এই হত্যাকারীদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে। সেই ক্ষেত্রে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের যে চলমান প্রক্রিয়া, সেটা অব্যাহত আছে। এই চলমান প্রক্রিয়ার ব্যাপারে যদি বিশদ কিছু বলতে যাই, তাহলে চলমান প্রক্রিয়া ব্যাঘাতপ্রাপ্ত হবে। সে জন্য আমি শুধু এটুকু বলবো, এ ব্যাপারে কোনও শিথিলতা নেই, তাদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন