বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে ষড়যন্ত্র ও জিয়ার সম্পৃক্ততা

আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য বারবার উঠে এসেছে। নানা ঘটনা প্রবাহ, ব্যক্তির বক্তৃতা- বিবৃতি ও সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

১৯৭৬ সালের ৩০ মে ‘দ্য সান ডে টাইমস’-এ খুনি লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমানের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে ফারুক রহমান দাবি করে- “খন্দকার মোশতাকের ভাগ্নে ও আমার ভায়রা আব্দুর রশিদ প্রথমে আমার কাছে মুজিবকে সরিয়ে খন্দকার মোশতাককে প্রেসিডেন্ট পদে বসানোর প্রস্তাব দেন। আমি তাতে রাজি হই ও মেজর জেনারেল জিয়াকে সেনাবাহিনীর প্রধান করার প্রস্তাব দিই। মুজিবকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণের পর মোশতাক ও জিয়া আমাদের পরিকল্পনায় সম্মত হন।”

তদুপরি, ওই বছরের আগস্টে লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদ ইংল্যান্ডের আইটিভি টেলিভিশনে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিল যে, বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনাকালে সে সময়ের উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের কাছে গিয়ে তারা হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করলে জিয়া তাদের এগিয়ে যেতে বলেন এবং তাদের উৎসাহিত করে বলেন, তারা সফল হলে জিয়া তাদের সঙ্গেই থাকবেন।

সাক্ষাৎকারের এ অনুষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য এবং বাইরে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নেভিলে অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস। সেই সাক্ষাৎকারে ম্যাসকারেনহাসকে তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনায় উপরের সহযোগিতা পেতে একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার আশ্রয় এবং দিকনির্দেশনা দরকার ছিল তাদের। তাই হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া জুনিয়র অফিসাররা তৎকালীন আর্মির উপ-সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বেছে নেয়। এ বিষয়ে অন্যতম খুনি কর্নেল ফারুক ম্যাসকারেনহাসকে ভিডিও সাক্ষাৎকারে আরও বলে, “আমাদের লিড করার জন্য জেনারেল জিয়াই ছিল মতাদর্শগতভাবে যোগ্যতম ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি।”

তথ্যসূত্র: : মর্তুজা হাসান সৈকতের ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে ষড়যন্ত্র ও জিয়ার সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে সংকলিত