বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনায় আমেরিকা ও পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২২, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনায় আমেরিকা এবং পাকিস্তানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেই মনে করতেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও। আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জারের প্রাক্তন স্টাফ অ্যাসিসটেন্ট রজার মরিসও এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে ড. কিসিঞ্জার ও মার্কিন বৈদেশিক নীতি সম্পর্কিত একটি গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে কিসিঞ্জারের একজন বিশ্বস্ত প্রবীণ সহকারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন।

ওই প্রবীণ সহকারী তখন তাকে বলেন, ‘কিসিঞ্জারের আমলে মার্কিন বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তিনটি ‘নেমেসিস’ (গ্রিক পুরাণের প্রতিহিংসার দেবী) ছিল। কিসিঞ্জারের ভাষায় বিদেশি শত্রুর তালিকায় ছিলেন তিন জন ‘সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি’। এই তিনজন হলেন চিলির প্রেসিডেন্ট আলেন্দে, ভিয়েতনামের থিউ এবং বাংলাদেশের শেখ মুজিব। এরা কিসিঞ্জারের পরিকল্পনা ভূল করে দিয়েছেন। মরিসের মতে, ‘অপর দুজনের তুলনায় শেখ মুজিব ভিন্নপর্যায়ে পড়েন। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে কিসিঞ্জার তার ব্যক্তিগত পরাজয়ের শামিল ছিল বলে মনে করেন।’

অপরদিকে, হত্যাকা-ের দিন হিসেবে ১৫ আগস্ট তারিখটিকে বেছে নেয়া হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের অনুমোদনক্রমে। কারণ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আর ভারতের সহযোগিতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জয়লাভকে তারা লজ্জাজনক পরাজয় হিসেবেই নিয়েছিলেন। তাই ভারতের স্বাধীনতা দিবসকেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য নির্ধারণ করা হয় প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে। এর পাশাপাশি তারা ভারতকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছিল। সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অরুণ ব্যানার্জি এ প্রসঙ্গে বলেছেন- নির্দিষ্ট করে এই ১৫ আগস্ট তারিখটা বেছেই নেওয়া হয়েছিল খুব সচেতনভাবে। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ওটা, আর ক্যুর ষড়যন্ত্রকারীরা ভারতকেই একটা মেসেজ দিতে চেয়েছিল।

বার্তাটা ছিল এমন, তোমাদের এত খাতিরের লোক- আর তোমাদের বিশেষ দিনে দেখো এই তার অবস্থা। তাছাড়া তাদের আশঙ্কা ছিল, অন্য কোনো দিনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে, ভারত-বাংলাদেশের পঁচিশ বছরের শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। ভারত সামরিক অভিযান চালালে তা সামাল দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। কিন্তু ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনী ব্যস্ত থাকবে। এমন একটি দিনে তারা প্রতিবেশী দেশে সামরিক অভিযান চালাবে না। তাই কৌশলগত কারণেই এই দিনটিকে চক্রান্তকারীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার দিন হিসেবে বেছে নেয়।
তথ্যসূত্র: : মর্তুজা হাসান সৈকতের ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে ষড়যন্ত্র ও জিয়ার সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে সংকলিত