বছরব্যাপি আলোচনায় ছিলো কয়েকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



২০১৬ সালে নগরীতে বেশ কয়েকটি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। পরপর ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকা- নগরবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে নগরবাসী। প্রতিবাদে নগরবাসী আন্দোলনে নামে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা বলছেন, এইসব হত্যাকা-ের বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গত ১৬ নভেম্বর নগরীর ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ঠিকাদার খন্দকার মাইনুল ইসলাম নিহত হন। খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিএনপি নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খন্দকার মাইনুল ইসলাম নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিহতের পারিবার জানিয়েছিল, খন্দকার মাইনুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবসায়িকভাবে বেশ খারাপ অবস্থায় ছিলেন। ব্যাংকে তার মোটা অংকের ঋণ ছিল। এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন বলেছিলেন, খন্দকার মাইনুল ইসলামের মাথায় (কানের ওপরে) ডান পাশ দিয়ে রিভলবারের গুলি ঢুকে বাম দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। নিজের লাইসেন্স করা রিভলবার দিয়েই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে বিষয়টি আত্মহত্যা কিনা তদন্ত করছে পুলিশ।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নগরীর বুধপাড়া এলাকায় এক মা তার সাত বছরের শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় মা তসলিমা বেগমকে (৩০) পুলিশ আটক করে। নিহত শিশু সন্তানের নাম শাহরিয়ার আলম কাব্য। কাব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মডেল স্কুলের শিশু শ্রেণির ছাত্র। তবে তসলিমা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। কাব্যের বাবা রফিকুল ইসলাম মেহেরচ-ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার একটি ওষুধের দোকানও আছে। মতিহার থানার ওসি হুমায়ন কবির তখন জানিয়েছিলেন, কাব্যের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মা তসলিমা বেগমের মাথাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার পর মা তসলিমা বেগমও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
গত ৬ মে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পীর ইমাম মেহেদী ওয়াকাফ স্টেট তরিকার মুরিদ ছিলেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে সন্ধ্যায় উপজেলার জুমারপাড়া আমবাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে তানোর থানার পুলিশ। নিহতের ছেলে রাসেল আহম্মেদ থানায় গিয়ে তার বাবার লাশ শনাক্ত করেন। শহীদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার মহানন্দখালী গ্রামে।
এর পরের দিন ২৪ এপ্রিল বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক টুকু রাজশাহী নগর ভবনের সামনে অবস্থিত নিজের ব্যবসায়িক চেম্বারে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর ৫ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী শামসুন নাহার লতা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
এর পরের দিন খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী। তাকে সকাল ৭টায় নগরীর শালবাগান এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত রেজাউল করিম সিদ্দিকী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ছিল রাজশাহীর বাগমারার দরগামাড়িয়ায়। সেখানে তার একটি গানের স্কুল ছিল। কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না। সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিচিতজনরা।
গত ২২ এপ্রিল রাজশাহীর নাইস ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের কক্ষ থেকে দুই তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পুলিশ ওই ঘটনাকে পরিকল্পিত জোড়া হত্যাকা- বলে উল্লেখ করেছিলেন। নিহত যুবকের নাম ছিল মিজানুর রহমান (২৩)। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। হোটেলের রেজিস্ট্রারে তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেখা ছিল। তরুণীর নাম সুমাইয়া (১৯)। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বাড়ি ছিল পাবনার রাধানগরে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলটির ৩০৩ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন তারা।
তখন বোয়লিয়া থানার ওসি জানিয়েছিলেন, সুমাইয়ার মুখে ছুরি দিয়ে কাটা দাগ আছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখে বালিশ চাপা ছিল। আঘাতের পর বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া মিজানুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তবে পেছনের দিকে তার হাত বাঁধা ছিল। ফলে এটি পরিকল্পিত হত্যাকা- বলে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত।
নগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নগরীতে ঘটে যাওয়া আলোচিত হত্যাকা-গুলোর বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ