বছরে কোটি টাকা রাজস্ব আয়, ফান্ডে টাকা নেই সংবাদ সম্মেলনে কাটাখালি পৌরসভার কাউন্সিলরগণ

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ৭:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


‘পৌরসভার মেয়র আব্বাসের থেকে মুক্তি পেতে কাটাখালী সিটি করপোরেশন বা অন্য কিছু হলেও আমাদের আপত্তি নেই এমন দাবি কাউন্সিলরদের। তারা বলছেন, বছর কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয় পৌরসভায়। কিন্তু এখন ফান্ডে এক কাপ চা খাওয়ার টাকা নেই।’

শুক্রবার (২৬) নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় পৌরসভা ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান। এসময় পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ কাউন্সিলরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়-কাউন্সিলরা ও পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ, জোরপূর্বক সভা ও অন্যান্য কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতেন মেয়র। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প- ২য় পর্যায়, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের যাবতীয় কাজ তার আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স ইস্যু করে কাজ দিতেন। বাইরের ঠিকাদারকে লাইসেন্স ইস্যু করতে দিতেন না। আব্বাসের আত্মীয় ও স্বজনের মধ্যে চারজনের নামে লাইসেন্স আছে এই পৌরসভায়।

এসময় আরো জানানো হয়- পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী চৌমুহনীর আবু বাক্কার হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার ভাই আরিফুল ইসলাম মানিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিউল ইসলাম লিলন হত্যায় দ-প্রাপ্ত ফাঁসির আসামি।

মেয়র আব্বাস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নামে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ এবং বিরূপ মন্তব্য করেছে। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল দখল পূর্বক অনুমোদনহীন দ্বিতল বিশিষ্ট দুইটি মার্কেট নির্মাণ করেছেন তিনি। মেয়র আব্বাস আলীর অপসারণের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব করা হয় ২৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সভা থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ১ নম্বর প্যানেল মেয়র আনোয়ার সাদাত, ২ নম্বর প্যানেল মেয়র মো. সিরাজুল ইসলাম, ৩ নম্বর প্যানেল মেয়র মোসা. হোসনে আরা বেগম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন মোল্লা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বোরহান উদ্দীন রাব্বানী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক।