বছরে ২ লক্ষ আইটি কর্মীর চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা ভারতে

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক   


ঘটনাচক্রে ইনফোসিসের পদত্যাগী সিইও বিশাল সিক্কাকে প্রাথমিক জোরালো ধাক্কাটা খেতে হলেও, গোটা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পেরই ‘সাড়ে সর্বনাশে’র দিন ঘনিয়ে আসছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে ফি বছরে ২ লক্ষ কর্মী ছাঁটাই হতে পারেন।এমনটাই মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প মূলত যার ওপর নির্ভর করে, বিশ্বের বাজারে সেই সফটওয়্যার ও তাদের প্রযুক্তি বিক্রির পরিমাণ উত্তরোত্তর কমছে। হালে সেই সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। যার জেরে ২০২০ সালের মধ্যেই ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পক্ষেত্রের পৌনে দু’লক্ষ থেকে দু’লক্ষ কর্মী ছাঁটাই হতে পারেন, ফি বছরে। বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ যে হারে কমছে, তার ছাপ পড়তে পারে বাজেটের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে। রফতানির ওই হ্রাস কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি আরও বাড়াবে।
এ মাসেই প্রকাশিত কেন্দ্রের আর্থিক সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম বলেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ও পরে যে ভূবনায়ন বিরোধী ঝোঁক দেখা যাচ্ছে আমেরিকায় আর ব্রেক্সিট গণভোটের পর ইউরোপের যা অবস্থা, তাতে প্রচুর সংখ্যায় ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা।
হালে প্রকাশিত কেন্দ্রের আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি আর ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের ভিসার মূল্য যে ভাবে বেড়ে গিয়েছে, তা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ইঞ্জিনিয়ারদের আমেরিকা ও ব্রিটেনে গিয়ে চাকরির ক্ষেত্রগুলিকে উত্তরোত্তর সংকুচিত করে দিচ্ছে।
উদ্বেগের বাড়তি কারণ অটোমেশন। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, অটোমেশন ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পক্ষেত্রের ৬৯ শতাংশ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের দরজা খুলে দিতে পারে।
মুম্বইয়ের অর্থনীতিবিদ টেরেসা জনের কথায়, ‘‘সফটওয়্যার রফতানি হ্রাস পাওয়ায় বাজেটের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতির পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে জিডিপি’র ১.৯ শতাংশে পৌঁছে যাবে। তার ফলে টাকা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে ডলার, পাউন্ড, ইউরোর তুলনায়।’’
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ