বছরে ৬ লক্ষাধিক মে.টন চালের অপচয়! সচেতনতাই পারে এই অপচয় ঠেকাতে

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০২১, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

দেশে এখনো ২০ শতাংশ লোক দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতি ৫ জনের একজনের দিনে তিন বেলার খাবার সংগ্রহ সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতেও দেশে বছরে ছয় লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল ‘বিলাসিতা’য় নষ্ট হয়। সামাজিক অনুষ্ঠান, গৃহস্থালি পর্যায়ে পরিবেশনসহ বিভিন্নভাবে এ অপচয় হয়। নষ্ট হওয়া এ চাল দিয়ে চার হাজারের বেশি মানুষের সারা বছরের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে দেশে চাল উৎপাদন ও ব্যবহার বিষয়ক গবেষণা তথ্যটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছে ব্রি।
ওই গবেষণা তথ্যে উল্লেখ করা হয়, দেশের মানুষ যে চাল খায় (হিউম্যান কনজাম্পশন) তার মধ্যে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ গৃহস্থালি পর্যায়ে অপচয় হয়। অপচয়ের মধ্যে খাদ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুতি পর্যায়ে ৩ শতাংশ, পরিবেশন পর্যায়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্লেটে অপচয় ১ দশমিক ১ শতাংশ। গৃহস্থালি পর্যায়ে অপচয়ের প্রধান কারণ অজ্ঞতা ও বিলাসী মানসিকতা বলে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, ১৭ কোটি মানুষ হিসাবে গেল বছর দেশে ভোগ্য-চালের চাহিদা ছিলো দুই কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন। ব্রি’র গবেষণার তথ্য অনুযায়ী এই ভোগ্য-চালের মধ্যে গৃহস্থালি পর্যায়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ অপচয় হলে মোট অপচয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে খাদ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুতি পর্যায়ে ৩ শতাংশ অপচয়ের হিসাবে চালের পরিমাণ দাঁড়ায় সাত লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন। আর পরিবেশন ও প্লেট পর্যায়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হিসাবে অপচয় হয় ছয় লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। সংগ্রহ ও প্রস্তুতি পর্যায়ের অপচয় অজ্ঞতা এবং পরিবেশন প্লেট পর্যায়ের অপচয় বিলাসিতার কারণে হয় বলে ব্রি গবেষণায় উল্লেখ করেছে।
বিয়ে বা অন্যান্য বড় বড় অনুষ্ঠানে খাবার নষ্টের বিষয়টি অনেকেরই ধারণার মধ্যে আছে। এর দায় অনুষ্ঠান আয়োজনকারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদেরই উপর বর্তায়। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে একটি শস্যদানা খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে যে দীর্ঘ পরিভ্রমণ তার উপলব্ধি থাকলে কেউ বিলাসিতা করে খাবার নষ্ট করতো বলে মনে হয় না। একটা ভাত তৈরি করতে কত কষ্ট করতে হয়। এটা যে অনুধাবন করবে সে কোনোভাবেই খাবার নষ্ট করবে না। এই উপলব্ধির খুবই জরুরি যে, খাবারগুলো দিয়ে কত মানুষের আহার হতো সেটা অনুধাবন করা। ফকির-মিশকিনকে ভিক্ষে না দেয়াটা অপরাধ নয়Ñ কিন্তু অপচয় করা অপরাধ। জ্ঞাত কিংবা অজ্ঞাতসারে এই অপরাধ হচ্ছেই। অপচয় কোনোভাবেই মানবিক গুনাবলি হতে পারে না। সচেতনতাই পারে অপচয় ঠেকাতে। আর সচেতনতা বাড়াতে সরকারের প্রচারণাও থাকা বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ