বজ্রপাতে নিহত ১৬ জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২১, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


গত বুধবার জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়রে পদ্মা নদীর দক্ষিণপাকা ফেরী ঘাটে বজ্রপাতে নিহত ১৬জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সদর উপজেলার ক্ষতিগ্রসথদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাদের পরিবারগুলোর আত্মীয়দের সাথে। প্রথমে নারায়নপুর গ্রামে বর আল মামুনের নানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার নানা তবজুল ইসলামসহ তার পরিবারের ৬জন নিহত হওয়ায় বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তবজুল ইসলামের বাড়ির সামনেই নিহত ৬জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। লাশ চুরির ভয়ে কবরগুলিকে রড, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে নিহতদের আত্মীয় সফিকুল ইসলাম জানানা। বাকি লাশগুলোও দাফন কাজ শেষ হয়েছে। এ বাড়িতে অবস্থানরত নিহত তবজুলের নাতনি সেলিনা খাতুন জানান, এঘটনায় তার স্বামী সইবুর, তার পিতা শরিফুল ইসলাম পাতু, নানা-নানি, মামা-মামি ও খালাসহ ৭জন এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন। এখন তার আশ্রয়স্থল না থাকায় তিনি পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করছেন। অপরদিকে একই ইউনিয়নের ডাইলপাড়া গ্রামে বর আল মামুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও চলছে শোকের মাতম। আল মামুন তার পিতাসহ ১৬জন স্বজনকে হারিয়ে পাগলপ্রায়।একই অবস্থা তার নববধূ সমী বেগমেরও। বুধবার নৌকাযোগে সদর উপজেলার নারায়নপুর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা এলাকায় যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ৫জন মহিলাসহ ১৭জনের মৃত্যু হয়। এদের সকলের বাড়ি সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অসুস্থ্যদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদেরও সহযোগিতা করা হবে। উল্লেখ্য, বউভাতের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ১৬জনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিহতদের নিহতরা হলেন-বজ্রপাতে নিহতরা হলেন, বরের বাবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জনতার হাট গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪২), দুলাভাই সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোঠাগ্রামের সোহবুল (৩৫), ফুফু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জৈটকাপাড়া গ্রামের বেলিয়ারা বেগম (৩৪), ফুফা টিপু সুলতান (৪০), নানা নারায়ণপুর ইউনিয়নের মহারাজনগর ডাইলপাড়া গ্রামের তোবজুল (৭০), নানি জমিলা বেগম (৬০), খালা ল্যাতন বেগম (৪৫), খালাতো ভাই মো. বাবলু (২২), মামা মো. সাইদুল (৪০), মামি টকিয়ারা বেগম (৩০), মামাতো ভাই বাবু (১৫)। সূর্য্যনারায়ণপুর গ্রামের কালুর ছেলে আলম (৪৫), মো. মোস্তফার ছেলে পাতু (৪০), বরের চাচাতো ভাই সূর্য্যনারায়ণপুর গ্রামের ধুলু মিয়ার ছেলে সজিব (২২), সাহালাল ওরফে বাবুর স্ত্রী মৌসুমী (২৫), সুন্দরপুর গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে আসিকুল ইসলাম (২৪) ও ফেরিঘাটের মাঝি শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণপাকা গ্রামের মৃত সহবুলের রফিকুল (৬০)।