বজ্রপাতে প্রাণহানি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে

আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বজ্রপাতে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। যা নিয়ে পরিবেশ ও আবহওয়াবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। উত্তোরাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টিতে বজ্রপাত হলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার (২১ জুন) নওগাঁর মান্দায় বজ্রপাতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১টি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ময়মনসিংহে ৬ জন, সিরাজগঞ্জে ৩, রাজশাহীতে ২ জনসহ নওগাঁ, বগুড়া, জামালপুর, ঢাকা, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর ও দিনাজপুর জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ২ হাজার ৫৯০ জন। বজ্রপাতে গত বছর রেকর্ড সংখ্যক ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বছরে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়।
আবহাওয়া ও পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাত আরও ঘন ঘন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি, এমনকি বায়ুদূষণেও বজ্রপাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী বা জলাভূমি শুকিয়ে গেলে এবং গাছপালা ধ্বংস হওয়ার কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ধরনের আবহাওয়া বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী।
বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ায় ২০১৬ সালে সরকার এটিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে। এরপর বজ্রপাত ঠেকাতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচাতে দরকার উঁচু গাছ। কিন্তু এ ধরনের গাছের সংখ্যা কমছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে উঁচু গাছ রাখার মতো সচেতনতা ও পরিবেশবিষয়ক জ্ঞানও লোপ পাচ্ছে দিন দিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাম ও শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে ৪০ মিটার বা তার কাছাকাছি উচ্চতার গাছ থাকা চাই। এছাড়া বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, জলাশয় কিংবা হাওরে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর তাল, নারকেল, সুপারি বাবালা, হিজল, বটের মতো গাছ লাগাতে হবে। বজ্রপাত প্রতিরোধ করতে সরকার সারা দেশে ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কয়েক লাখ তালের আঁটি রোপণ করে পরিচর্যা করতে না পারার অজুহাতে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উত্তোরাঞ্চলের বরেন্দ্র এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি। এ অঞ্চলে তালগাছ লাগানোয় সরকারি উদ্যোগের স্বচ্ছতার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বজ্রপাতের সময় মানুষের করণীয়, প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ