বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে || দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর উগ্যোগ চাই

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

বজ্রপাত ভয়ঙ্কর যমদূত হিসেবে বাংলাদেশে আভির্ভুত হয়েছে। বজ্রপাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। বজ্রপাতে জীবনহানির ঘটনা আগেও ছিল কিন্তু এই মৃত্যুসংখ্যা বাড়তেই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। তবে জনমনে মৃত্যুর আধিক্য উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। রোববার ( ২ জুলাই) কুষ্টিয়ায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। এ ক্ষেত্রে সতর্কিকরণও কাজে আসেনি। বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে নিহতরা ভ্যান থেকে নেমে মাঠের মধ্যে কাচা ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল কিন্ত শেষ রক্ষা হয় নি। দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে বজ্রপাতে ২০১০ সালে ১২৩, ২০১১ সালে ১৭৯, ২০১২ সালে ৩০১, ২০১৩ সালে ২৮৫, ২০১৪ সালে ২১০, ২০১৫ সালে ২৭৪ এবং ২০১৬ সালে ৩৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালে যে দিনই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে সেদিনই বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও বজ্রপাতে ৫/৭ জনের মৃত্যুসংবাদ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ক্রমশ বাড়ছে।
২০১৬ সালে সাড়ে তিনশো মানুষ মারা গিয়েছিল বজ্রপাতে এবং সে বছরই বহু মানুষের প্রাণহানির পর প্রথম বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার। এরপর বজ্রপাত রোধে নেয়া হয় বিশেষ পরিকল্পনা এবং শুরু হয় সতর্কীকরণ কর্মসূচি। কিন্তু তারপরও থেমে নেই এমন মৃত্যু।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম জানাচ্ছে- বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের হিসেব অজানা। তবে ধারণা করা হয় যে সংখ্যায় মানুষ নিহত হন তার চেয়ে চার থেকে ৫ গুণ মানুষ আহত হন।
সতর্কতামূলক প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কারণ বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য উঁচু গাছপালা সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
ডিজাস্টার ফোরাম বলছে,  বজ্রপাতের ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন মূলত কর্মক্ষম পুরুষেরা। এর ফলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাঠে কর্মরত কৃষক-মজুর বজ্রপাতের শিকার হয় বেশি এবং তারা কর্মঠ জনশক্তি। মাঠে আর আগের মতো কোনো উঁচু গাছপালা নেই। উত্তরবঙ্গে জমির আলে, পুকুর পাড়ে ৩০/৪০ বছর আগে অসংখ্য তালগাছসহ উঁচু উঁচু বিভিন্ন বৃক্ষ ছিল। সেসব নিধন হয়ে গিয়ে বৃক্ষশুন্য ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। আবার বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বজ্র-ঝড়ের সংখ্যাও বেড়েছে। বোরো ধান বাংলাদেশের মূল ফসলে পরিণত হওয়ায় এ সময় কৃষক ও মজুর ফসলের মাঠে অবস্থান করে অনেক বেশি। ফলে বজ্রপাতে জীবনহানির সংখ্যা বাংলাদেশে বেড়েছে।
সরকার সতর্কমূলক প্রচারণার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বটে তবে তা এখনো তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় নি। বিশেষ করে ক্ষেত-মজুর শ্রেণির মানুষদের সচেতনে বিশেষ উদ্যোগ থাকা দরকার। অত্যধিক বজ্রপাতের কারণঅনুসন্ধান করাও জরুরি।  প্রযুক্তি বিস্তারের সাথে বজ্রপাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা দরকার। বজ্রপাতে যারা নিহত বা আহত হচ্ছে তারা সাধারণত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। সরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সেক্ষেত্রে ওই সব পরিবারগুলো অর্থসহ অন্যান্য সহযোগিতা পাওয়ার অধিকারী। নিশ্চয় সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিবে বলে প্রত্যাশা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ