বজ্রপাত থেকে রক্ষার উপায় || পরিকল্পনা অনুযায়ী তালগাছ রোপন করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশের আনাচে-কানাচে তালগাছ রোপন করার জন্য বীজ বিতরণ করছে। কিন্তু একটি তালগাছ পরিপূর্ণ আকার ধরণ করতে এক প্রজন্ম অতিবাহিত হয়ে যায়। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী তালগাছ লাগাতে হবে। যাতে করে পরবর্তীতে পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই তালগাছকে কেটে ফেলতে না হয়। এজন্য প্রয়োজনে বন বিভাগ দিক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
হাত পাখার শীতল বাতাস থেকে শুরু করে বজ্রপাত জনিত মৃত্যুর হার কমানোর প্রধান সহায়ক হল তালগাছ। থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও ৬৪ জেলায় তাল গাছ রোপন করে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। দুই দশক আগে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের আনাচে কানাচে শোভাপেত অসংখ্য তালগাছ। জনশ্রুতি আছে তালগাছে বজ্রপাত হয় বলে নিধন হতে হতে এখন বিলুপ্তপ্রায়।
২০১৬ সালে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছের উপকারিতা উপলব্ধি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চৈত্রের প্রচন্ড খরতাপে তালের কচিশাস, তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা কারিগর পাখি বাবুইয়ের বাসা, তালপাতার হাত পাকার শীতল বাতাস, ভাদ্রমাসের তালের পিঠা এখন প্রায় অতীত।
শুধু বজ্রপাত থেকেই তালগাছ রক্ষা করে না। তালগাছ মানুষের অনেক উপকারে আসে। যেমন তালের শাঁসের টুপি প্রচুর পরিমানে তাপ শোষণ করে মাথা ঠান্ডা রাখে। শুধু তাই নয়, তাল গাছের কোন কিছুই ফেলনা নয়। তালগাছ অনেক দিন বাঁচে, অন্য ফসলের কোন ক্ষতি করে না, মাটির ক্ষয়রোধ করে, তালগাছ ঘর তৈরির উত্তম কাঠ, গাছের ডালের গোড়ার অংশ সেদ্ধ করে যে আঁশ পাওয়া যায় তা অত্যন্ত উন্নতমানের তন্তু, জ্বালানি হিসাবে এর চাহিদা অনেক, স্ত্রী ও পুরুষ জাতীয় তালগাছ একটানা ৯০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত ২৪ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৫ কেজি রস দেয়, যার পাঁচ কেজি রস থেকে এক কেজি উন্নতমানের গুড় তৈরি হয়। তালের রসের কাথ উচ্চমানের মাছ ও গরুর খাবার। তালের আটির উপরি অংশে সুতা খোসা মোজাইক পাথরের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তা ছাড়া তালের রস উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সু-স্বাদু খাবার।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে ৬৯১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। ২০১৬ সালে ১২ মে ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বজ্রপাতে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঐ সময় সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগের অর্ন্তভূক্ত করেন। বিগত বছর বজ্রপাতে প্রায় ২০০ জন মানুস মারা গেছে। এ সময় প্রচুর গবাদিপশু ও মারা যায়। গতকালই নীলফামারী ও দিনাজপুরে ১০ জনকে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাত যেহেতু উচু যায়গায় আঘাত করে, সে হিসাবে তাল গাছ মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে সহায়ক হবে। তাই আমরা পরিবেশের ভারসাম্য ও বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য এই প্রাচীন বৃক্ষগাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সবাই মিলে এগিয়ে আসি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ