বড়াইগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আপডেট: মে ১৭, ২০২৪, ৪:৫১ অপরাহ্ণ


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি :


নাটোরের বড়াইগ্রামে সদ্য জাতীয়করণকৃত বড়াইগ্রাম সরকারি অনার্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও অর্থ আত্নসাৎ সহ নানা অভিযোগের পাহাড় জমেছে। কলেজের সাধারণ শিক্ষকরা প্রতিকার চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন।

ডিজির আবেদন থেকে জানা যায়, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান গত নভেম্বররে দায়িত্ব নিয়েছেন। এরপর থেকেই স্বজনপ্রীতি, আর্থিক দূর্নীতি, চাঁদা দাবি, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাত, শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ সহ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারি বিধি মোতাবেক একাডেমিক কাউন্সিলে কলেজ পরিচালানার যাবতীয় সিদ্ধান্তের অনুমোদন নিয়ে কলেজ পরিচালনার বিধান রয়েছে। অথচ তিনি একাডেমিক কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে কোনো সভা না করেই অনিয়ম ও বিধিবর্হিভূতভাবে রেজুলেশন লিখে তাতে শিক্ষকদের নানা কৌশলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এরপর রেজুলেশন খাতায় ফ্লুইড ব্যবহার ও ঘষা মাজা করে সিদ্ধান্ত সমূহ পরিবর্তন করেন।

গত ডিসেম্বরে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ট্রেজারির মাধ্যমে বেতন বরাদ্দের পর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সাথে যোগ সাজসে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট হতে পাঁচ থেকে এগারো হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করেন। প্রতিবাদ করায় অন্তত ১০ জন শিক্ষকের বেতন ভাতা আটকে রেখে তাদের মানসিক ভাবে নির্যাতন করেন। শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা, বকেয়া বেতন ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা সহ ছুটি মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবারই ঘুষ নেন।

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষকের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি মঞ্জুর করতে গড়িমসি ও নানা রকম টালবাহান করছেন। কোনো ক্রয় কমিটি না করে নিজেই দ্রব্যাদি কিনে অনুগত শিক্ষক দিয়ে বিল-ভাউচার তৈরী করেন। সরকারি বিধান থাকলে তিনি কোন ভ্যাট প্রদান করেন না। তিনি কোন সভা বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সরাসরি তার ভাসতি জামাই ও নাতিকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেন।

স্থানীয় এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান করে একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন ছাড়াই তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। অনুগতদের খুশি রাখতে প্রতিদিন দুপুরে অফিস কক্ষে রান্না করে ভুড়ি ভোজ করান। কলেজের ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, পরিসংখ্যান ও দর্শন বিষয়ের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব বিধি বর্হিভূতভাবে পছন্দ মতো অনুগত জুনিয়র শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রতিবাদ করলে তিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সাথে চরম অসৌজন্যমূক আচরণ করেন।

তিন হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যাংকিঙের মাধ্যমে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বাবদ তিন হাজার ও কলেজ পাওনার নামে আরো দুই হাজার টাকা করে আদায় করেছেন। সরকারি বিধির তোয়াক্কা না করে ভর্তির ক্ষেত্রে একাদশ শ্রেণিতে দুই হাজার ৫০০, ডিগ্রি (পাস) কোর্সে চার হাজার ৫০০ এবং অনার্স শ্রেণিতে চার হাজার ৬৪০ টাকা করে আদায় করেন। কিন্তু সরকারি বিধি মোতাবেক নির্দিষ্ট অংক রশিদ কেটে ব্যাংকের সাধরণ তহবিলে জমা করেন। অবশিষ্ট টাকা আত্মসাৎ করেন বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।

বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নেকবর হোসেন বলেন, শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা নেয়াসহ অধ্যক্ষের বিষয়ে করা সকল অভিযোগ শতভাগ সত্য। শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূক আচরণ তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। ভর্তি থেকে শুরু করে ফর্মপূরণ সকল ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক অনিয়ম আছে।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজাউল করিম বলেন,অধ্যক্ষ তার ভায়রা শহীদুল ইসলামকে সাথে নিয়ে কলেজের সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সিনিয়ার শিক্ষকদের আত্মসম্মান নিয়ে চাকরি করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অধ্যক্ষকে টাকা না দেয়ার জন্য শ্রান্তি বিনোদনের টাকা পায়নি ২০ জন শিক্ষক।

পরিসংখ্যানের আজিমুদ্দিন বলেন, আমি নিজেই ভিকটিম, কি বলব বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। একজন শিক্ষিত মানুষের পক্ষে এমন কর্মকান্ড করতে পারে ? কল্পনাই করা যায় না।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবিবর রহমান তার বিরুদ্ধে করা শিক্ষকদের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গুলোঅ সত্য ও অনৈতিক। তিনি কোন অনিয়ম করেননা। তার সমবয়সি শিক্ষকরা অধ্যক্ষ হতে না পারায় মনোকষ্টের কারণে এসব অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কাউকে চাকুরী নয়, দৈনিক মুজুরী ভিত্তিত্বে মাষ্টার রোলে নাতি ও ভাতিজী জামাইকে নিয়োগ দিয়েছেন।