বড়াল নদ এখন নালা

আপডেট: মার্চ ১৭, ২০২৪, ৩:০১ অপরাহ্ণ

বড়াল নদ এখন নালা
আমানুল হক আমান, বাঘা:


বড়াল নদের বুকে পলি জমে নালায় পরিনত হয়েছে। দুইপাড় চেপে গেছে এবং নদের পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। নদের চর ভূমি গ্রাসীরা দখল করে নিয়েছে।

জানা যায়, রাজশাহীর চারঘাট থেকে পদ্মার শাখা হিসেবে বড়াল নদের উৎপত্তি হয়। নদটি রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ী হয়ে হুড়া সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়া নামকস্থানের যমুনায় পড়েছে।

এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারনে নদের দুই পাড়ে আড়ানী বাজার, রুস্তমপুর পশুহাট, পাঁকা বাজার, জামনগর বাজার, বাশবাড়িয়া বাজার, তমালতলা বাজার, বাগাতিপাড়া থানা, দয়ারামপুর সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮১-৮২ অর্থ বছরে নদের তীরবর্তী উপজেলাগুলোকে বন্যামুক্ত করার লক্ষ্যে উৎসমুখ চারঘাটে বাঁধ তৈরির মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।

আড়ানী গোচর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, বাড়ল নদের বিভিন্ন স্থানে স্লইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে ক্রমান্বয়ে বড়াল নদ শুকিয়ে শীর্ণ নালায় পরিনত হয়েছে।

বড়ালে পানি না থাকায় এলাকার কৃষকরা নদের বুক জুড়ে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন। নদের ধারে গড়ে উঠা ব্যবসা বানিজ্যের কেন্দ্রগুলো তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহন করে পুণঃ খনন করা না হলে বড়াল তার ঐতিহ্য হারিয়ে মরুকরন প্রক্রিয়া তরান্বিত হতে পারে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান বলেন, শুষ্ক মৌসুমের বড়ালে পানি শুকে যাচ্ছে। ফলে বড়ালে ধারে ক্ষেতে পানি দিতে অসুবিধা হয় কুষকদের। তবে দ্রুত খনন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।