বদলগাছীতে ই-কমার্স নামক প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২১, ৯:১৭ অপরাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি:


নওগাঁর বদলগাছীতে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধলক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আমার বাজার নামক একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আমার বাজার ই-কমার্সের গ্রাহক মতিউর রহমানসহ আরো কয়েকজন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাতে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে বদলগাছী থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছে।
আসামিরা হলো বদলগাছী থানার ইসলাম আলীর ছেলে আরাফাত হোসেন ওরফে স্বাধীন (২৪), নওগাঁ সদর থানার রজাকপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে হারুন অর রশিদ (২৪), একই গ্রামের আবতাব হোসেনের ছেলে আহসান হাবীব(২৯), ঢাকার নয়াপল্টন থানাধীন সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাসুদুর রহমান (৫৩) এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।
থানার এজাহার ও ভূক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে বদলগাছী সদরের মাস্টারপাড়ার আজাদ হোসেনের বাড়িতে আমার বাজার ই-কমার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তারা গ্রাহকদের কাছে তেল, চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনলাইনে সরবরাহ করার নামে গ্রাহকভেদে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করার কথা বলে নেয়। এসব গ্রাহক যদি নতুন গ্রাহক সংগ্রহ করতে পারে তবে তারা দৈনিক ১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাবে বলে প্রলোভন দেখায়। এবং বছর শেষে প্রত্যেকের লাভের হিসেব করে দেশের বাহিরে অথবা কক্সবাজার ভ্রমণ করতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এসবের কোনটায় বাস্তবায়ন হয়নি।
সদর ইউপির গোরশাহী গ্রামের নবম শ্রেণি পড়–য়া ভুক্তভোগী গ্রাহক মতিউর রহমান বলেন, পণ্য দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে ১৬০০ টাকা নেয়। এবং নতুন গ্রাহক সংগ্রহ করে দিলে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা বেতন দিবে বলে জানায়। আমি নতুন গ্রাহক সংগ্রহ করে দিই কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোনো পণ্য বা পারিশ্রমিক কোনোটিই পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করি।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ঝর্ণা জানায়, বেশি টাকা ইনভেস্ট করলে বিদেশে ঘুরতে নিয়ে যাবে। তাই আমি ১৯ হাজার টাকা ইনভেস্ট করি। কিন্তু কিসের টাকা, কিসের বিদেশ সফর কিছুই নেই।
এছাড়াও ভুক্তভোগী রিমন, রাতুল, হৃদয়, সাকিব জানায়, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়েছে। কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি।
আমার বাজার ই-কমার্স গ্রুপের পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, যারা প্রতারণা করেছে তারা আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারি নয়, তারা গ্রাহক। আমাদের কম্পানির নিয়ম হচ্ছে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহককে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করলে বিক্রয়লব্ধ পণ্যের লাভের একটা অংশ প্রথম গ্রাহক পাবে। কিন্তু তারা টাকা কীভাবে নিয়েছে সেটা আমি জানি না।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরাফাত হোসেন ওরফে স্বাধীন, হারুন অর রশিদ ও আহসান হাবীবকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ