বদলগাছীতে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু কন্যাকে দেখতে গেলেন ইউএনও

আপডেট: জুন ৮, ২০২০, ৯:২৭ অপরাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি :


বদলগাছীতে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু কন্যাকে দেখতে যান বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তাহির-সোনার দেশ

নওগাঁর বদলগাছীতে রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু কন্যাকে দেখতে যান বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তাহির।
জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) উপজেলার চাপাডাল গ্রামে সন্ধ্যা রাতে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা দিয়ে তিন নারী যাচ্ছিলেন। এসময় রাস্তার পাশ থেকে শিশুর কান্না ভেসে আসে কানে। ওই তিন নারী খোঁজ নিয়ে দেখতে পান ফেলে যাওয়া ১টি ব্যাগের মধ্যে নবজাতক শিশু কন্যা কাঁদছে। সঙ্গে সঙ্গে নবজাতককে তারা উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে আশে পাশের লোকজন ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। কিন্তু করোনা সংক্রমনের কারণে কেউ নবজাতককে ছুঁতে যায়নি।
এ সময় যুবলীগ নেতা পাহাড়পুরের মনিরুজ্জামান মুন্নার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার বিপা ওই শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাসায় আসেন। বাসায় নিয়ে আসার পর বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়। শিশুটি তখন অসুস্থ অবস্থায় ছিল। এ সময় পাশের এক গৃহবধূ দুগ্ধ দানের চেষ্টা করে কিন্তু শিশুটি খায়নি।
পরে বিপা দুগ্ধ খাওয়ানোর চেষ্টা করলে শিশুটি তার দুগ্ধ পান করে। এখন ওই বিপার জিম্মায় শিশুটি লালিত পালিত হচ্ছে। বিপা জানান, তিনি জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী। আমার ১৮ মাসের ১টি পুত্র সন্তান রয়েছে। কুড়িয়ে পাওয়া কন্যাকে মায়ের আদর দিয়ে লালন পালন করছি। সন্তানের প্রতি আমার মায়া জন্মেছে। আমি এ সন্তানকে কাউকে দিয়ে থাকতে পারব না। পরিবারের পক্ষ থেকে নাম রাখা হয়েছে জান্নাতুল মাওয়া।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তাহির ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নবজাতককে দেখতে গিয়ে ওই শিশুটিকে কোলে নেন ইউএনও। এসময শিশুটিকে নতুন জামা কাপড় দেন এবং বিপার জন্য পুষ্টিকর ফলমুল দেন।
ইউএনওর কাছে বিপার শ^শুর আসাদুজ্জামান বলেন, তারা ওই শিশুটিকে লালন পালন করবেন। ওই পরিবারে শুধু পুত্র সন্তান কোন মেয়ে নেই। শিশু কন্যাটিকে যাতে অন্য কারো কাছে দেয়া না হয় এবং সরকারি নীতিমালা অনুসারে তাদের জিম্মায় যেন দেওয়া হয় এজন্য ইউএনও এর কাছে দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যারাতে চাপাডাল গ্রামে রাস্তারপাশে ব্যাগে করে কে বা কারা নবজাতক শিশু কন্যাটিকে ফেলে যায়।