বদলগাছীতে প্রকল্পের সোলার খুলে নিজের বাড়িতে স্থাপন করলেন নারী ইউপি সদস্য!

আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


বদলগাছীতে প্রকল্পের সোলার খুলে নিজের বাড়িতে স্থাপন করেছেন নারী ইউপি সদস্য

নওগাঁর বদলগাছীতে প্রকল্পের সোলার প্যানেল লাগানোর পরেরদিন নারী ইউপি সদস্য নিজেই সোলার খুলে নিয়ে গিয়ে নিজের বাড়িতে স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আধাইপুর ইউপির বৈকন্ঠপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারী ইউপি সদস্যের নাম সাবিনা ইয়াসমিন নিলু।
জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় সাধারণ বরাদ্ধের ১ম পর্যায়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য ২৯ লাখ ১ হাজার ৬১০ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আধাইপুর ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তার মধ্যে বৈকন্ঠপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের খাইরুলের বাড়ি সংলগ্ন সোলার প্যানেল স্থাপন একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে ওই গ্রামের প্রকল্প সুবিধাভোগী মিজানুর, ফেরে, হালিমা, শরিফুল ইসলাম ও খাইরুল জানান, গত তিন মাস আগে ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলু আমাদের ডেকে বলেন এই গ্রামে তো কোন বিদ্যুৎ নেই, আমি তোমাদের পাঁচটি পরিবারের জন্য একটি সোলারের ব্যবস্থা করে দিবো। কিন্তু এই সোলার সরকারিভাবে এখানে আনতে গেলে অফিসে টাকা দিতে হবে বলে পাঁচটি পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং প্রকল্প অনুযায়ী যথারীতি ইটকল অনুমোদিত পাতাকুড়ি কোম্পানির লোকজন গত ২১ এপ্রিল শুক্রবার প্রকল্পের সোলার প্যানেলটি খাইরুলের বাড়ির টিনের ছউনির উপর স্থাপন করে এবং খাইরুলের বাড়িতে ব্যাটারি রাখার জায়গা না থাকার কারণে খাইরুল ও ওই নারী ইউপি সদস্যর অনুমতি সাপেক্ষে তার পার্শ্বের বাড়ির মালিক শরিফুলের বাড়িতে সোলারের ব্যাটারিটি স্থাপন করেন। সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য কয়েক দিন আগে বাড়ি প্রতি আরো দুই’শ টাকা করে আমাদের কাছ থেকে ১ হজার টাকা উত্তোলন করেন। তারপরও ফেরে ও হালিমার বাড়িতে কোন সোলারের সংযোগ প্রদান না করে ইউপি সদস্যা তার ফুফু নেপালী ও তার প্রতিবেশী মুকুলের বাড়িতে সোলার দেন এবং ফেরে ও হালিমার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য খাইরুল, শরিফুল ও মিজানুরের কাছ থেকে আরো ৫শ টাকা করে চাই নারী ইউপি সদস্য। সেই টাকা দিতে না পারায় পরেরদিন গত ২২ এপ্রিল ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলু শরিফুলের অনুপস্থিতে নিজেই তার ঘরে ঢুকে ব্যাটারি ও সোলার প্যানেলটি খুলে নিয়ে গিয়ে তার নিজের বাড়িতে স্থাপন করেন। শরিফুল ইসলাম তার ঘর থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মহিলা ইউপি সদস্যের কাছে জানতে চাইলে তাঁকেও পরে আর কোন সংযোগ দেন নি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোলার প্যানেলটি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়ার কারণে আমি সোলার প্যানেলটি খুলে নিয়ে এসে আমার বাড়িতে স্থাপন করেছি। কিন্তু সোলার প্যানেল প্রদানের নামে ওই ৫টি পরিবারের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, ইটকল অনুমদিত পাতাকুড়ি কোম্পানি এখনও আমাকে প্রকল্পের সোলার বুঝে দেয় নি। প্রকল্পে সোলার প্যানেল স্থাপনের কোন অনিয়ম দুর্নীতি হলে খোঁজ নিয়ে প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইটকল অনুমদিত পাতাকুড়ি কোম্পানির বদলগাছী উপজেলা ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ওই প্রকল্পে গিয়ে সোলার প্যানেলটি নির্দিষ্ট স্থানে পাই নি এবং প্রকল্পে সোলার প্রদানের নামে টাকা গ্রহণের বিষয় নিয়েই সোলার প্যানেলটি নারী সদস্য নিজে খুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর নিজ বাড়িতে স্থাপন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ইউপি সদস্য সোলার প্যানেলটি নিজে খুলে আইন লঙ্ঘন করেছেন। আমি এ বিষয়ে ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো বলে তিনি জানান।