বদলগাছীতে সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং ক্ষতির মুখে শিক্ষার্থীরা

আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী


নওগাঁর বদলগাছীতে গত বোরো মৌসুমের পর থেকেই চলছে পল্লী বিদ্যুতের বেপরোয়া লোডশেডিং। স্থবির হয়ে পড়েছে অফিস আদালতসহ কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে এরপর উধাও হয়ে যায়। লোডশেডিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে পড়ে।
লাগামহীন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ জনগণ গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেনপাড়া পল্লী বিদ্যুতের সাব-সেন্টার ঘেরাও করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। খবর পেয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দীন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ওসি জালাল উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লোডশেডিংয়ের অত্যাচারে স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর আর বিদ্যুৎ থাকে না। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা হচ্ছে না। তাছাড়া যখন আযানের সময় হয় অথবা আযানের হাক পড়লেই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যায়। গ্রাম্য ভাষায় প্রবাদ আছে, ‘সারাদিন যায় আলে জালে আর জোস্নার রাতে কালাই ডলে’। পল্লী বিদ্যুতের সেই একই অবস্থা দেখা দিয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগ, কম্পিউটার ছাড়া কোন কাজ নেই। কিন্তু বিদ্যুতের বেহাল অবস্থার কারণে কাজকর্ম সঠিক সময়ে হচ্ছে না। এর ফলে জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বদলগাছী পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩২ হাজার ৪১৯ জন। বিদ্যুৎ প্রদানে ৬টি ফিডার বা ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৭ মেগাওয়াট। সাব জোনাল অফিসের এজিএম (কম) মোকলেছুর রহমান বলেন, আমাদের চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। কখনও ২ বা আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এজন্যই ৬টি ফিডারের মধ্যে সমন্বয় রেখে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিয়ে লাইন চালানো হচ্ছে। এছাড়া নওগাঁ জোন থেকেও লোডশেডিং দেয়া হয়। আবার কখনও কখনও মেইন লাইন চলে যায়।
এ বিষয়ে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম এনামুল হক মুঠোফোনে জানান, নওগাঁ সমিতির অধীনে তিনটি সাব জোনাল অফিস আছে। সব মিলিয়ে ২২-২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যায় ৯-১০ মেগাওয়াট। এ কারণেই বদলগাছীতে কখনও ২ বা আড়াই আবার কখনও ৩ মেগাওয়াট দেয়া হয়। সঙকটের মধ্যেই লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ চালানো হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ধ্যায় এক সঙ্গে সব এলাকায় বাতি জ্বালায়। এজন্য সন্ধ্যায় বিদ্যুতের ঘাটতি পড়ে। তাই মাঝে মধ্যেই লোডশেডিং দেয়া হয়। ইতোপূর্বে মাগরিবের নামাজের সময় লোডশেডিং দিলে সাবেক সাংসদ ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী উপজেলা মসজিদে নামাজ শেষে নেতাকর্মীসহ মুসল্লিদের সঙ্গে নিয়ে বদলগাছী পল্লী বিদ্যুতের সাব জোনাল অফিস ঘেরাও করেছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ