বদলগাছীতে সরকারি জলাশয়ের সাথে ব্যক্তি মালিকানা জমি লিজ দেয়ার অভিযোগ

আপডেট: July 8, 2020, 11:52 pm

বদলগাছী প্রতিনিধি :


নওগাঁর বদলগাছীতে থুপশহর বড় বিলা খাস জলাশয়-সোনার দেশ

নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি জলাশয়ের সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানার ৩ একর ৫৮ শতক জমি জোর পূর্বক লিজ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরাপুর ইউপির থুপশহর মৌজার বড়বিলা জলাশয়ে।

 

 

 

 

অভিযোগে জানা যায়, বড়বিলা ২৩ দশমিক ৬০ একর জলাশয়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৫৮ একর জলাশয় ব্যক্তি মালিকানা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মালিকানা উপেক্ষা করে সরকারি জলাশয়ের সঙ্গে মালিকানা জলাশয় প্রতি বছর অবৈধভাবে লিজ দেয়া হয়। জমির মালিক তার মালিকানা জলাশয় লিজ না দেয়ার জন্য এসিল্যান্ড, ইউএনওসহ জেলা প্রশাসক বরাবরে বারবার অভিযোগ করে কোনো লাভ হয়নি।
অবশেষে জমির মালিক সহিদুল ইসলাম ২০০২ সালের ২৯ এপ্রিল আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে দুতরফা শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ২১ অক্টোবর নওগাঁ ৬ নম্বর সহকারী জজ আদালত সরকারের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ যুগ্ম জেলা জজ আদালত নওগাঁ আপিল মামলা দায়ের করলে ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তা না মঞ্জুর হয়। এরপর ২০০৭ সালে মালিকানা জমি বাদ দিয়ে ৩ বছর মেয়াদে লিজ দেয়া হয়।

তারপর থেকে আবারও অবৈধ পন্থায় মালিকানা জলাশয় লিজ দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে আশিক চৌধুরী শাহিনের নামে ৬ বছর মেয়াদে বাংলা ১৪২৩ সন থেকে ১৪২৮ সন পর্যন্ত লিজ দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ১ মার্চ নওগাঁ জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় কার্য বিবরণীতে সাবেক জেলা প্রশাশক ড. মো. আমিনুর রহমান উল্লেখ করেছেন বড়বিলা জলাশয়ে ২৩ দশমিক ৬০ একর জলাশয়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৫৮ একর সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা রয়েছে এবং তাদের খাজনা খারিজ রয়েছে। ৬ বছর মেয়াদে বর্তমান লিজের মেয়াদ শেষ হলে বড়বিলা জলমহাল থুপশহর মৌজায় সাবেক ১৭০ ও হাল ৩০২ নম্বর দাগের ৩ দশমিক ৫৮ শতক জলাশয় বাদ দিয়ে পরবর্তীতে বড়বিলা জলাশয় লিজ দেয়া হবে।

জমির মালিক সহিদুলের ছেলে ময়েন উদ্দিন বলেন, বারবার বড়বিলা জলাশয় লিজ গ্রহিতাদের বিশেষ তদবিরে খুশি হয়ে অবৈধভাবে তাদের মালিকানা জলাশয় লিজ দেয়া হয়। তারা প্রতিবাদ করলে থানা পুলিশ দিয়ে তাড়ানো হয়। মারপিট করে ও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে প্রশাসন। তাদের সীমানা ঘেরা ছিল। বর্তমান লিজ গ্রহিতা তা তুলে ফেলে দিয়ে দখল করেছে।
লিজ গ্রহিতা আশিক চৌধুরী শাহিন বলেন, সরকার আমাকে লিজ দিয়েছে তাই আমি দখল করেছি।
মথুরাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, আমি কাগজপত্র দেখিনি কিন্তু শুনেছি ওই বিলে মালিকানা জমি আছে।
মথুরাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, বড়বিলা জলাশয়ে দুটি ভাগ আছে। তার এক অংশ পুরোটাই মালিকানা। আর এক অংশ খাস। কিন্তু সরকারিভাবে লিজ দেয়া হয় পুরো জলাশয়।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. নাহারুল ইসলাম বলেন, আমি কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারবো না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবু তাহির বলেন, ওই বিল কত তারিখে লিজ দিয়েছে এটা আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
আদালতের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যক্তি মালিকানা জমি খাস জলাশয়ের সঙ্গে কেন অবৈধভাবে লিজ দেয়া হয় এবিষয়ে জানার জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. হারুন আর রশীদের সঙ্গে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেন নি।