বদলগাছীতে স্কুলমাঠ থেকে উচ্ছেদ হয় নি হাট ।। দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

দলগাছী প্রতিনিধি


বদলগাছীতে স্কুলমাঠে হাটের চিত্র এটি -সোনার দেশ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা সদরে অবস্থিত স্বনামধন্য দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। এ দুইটি বিদ্যালয়ের মাঠ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা দখল করে চলছে হাটবাজার। ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। স্কুল মাঠ থেকে হাট সরানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন গত ১ বৈশাখের পূর্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে তা ভেস্তে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অর্ধেক মাঠে হাট বসতো। এখন রাস্তাঘাটসহ পুরো মাঠ দখল করে বসানো হচ্ছে হাট। যানবাহন ও হাটুরেদের চলাচলে স্কুলমাঠ কাদায় পরিপূর্ণ। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
গতকাল বুধবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এক হাঁটু কাদার মধ্যে বিদ্যালয় দুইটির মাঠ ও রাস্তা দখল করে কাঁচা তরিতরকারির পাইকারি হাট বসিয়ে চলছে কেনাবেচা। দূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকাররা বড় বড় ট্রাক ও ভটভটি এনে স্কুল মাঠ দখল করে রেখে কাঁচামাল গাড়িতে উঠা-নামা করছে। সেই সঙ্গে উপজেলার কৃষকেরা ভটভটি ও ভ্যানে করে কাঁচা তরিতরকারি এনে বাজারে বিক্রি করছে। বদলগাছীর প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তার মোড় থেকে শুরু করে স্কুল মাঠ ও থানার গেইট পর্যন্ত দখল করে হাটবাজার বসলেও দেখার যেন কেউ নেই। স্কুল মাঠ ও রাস্তা দখল করে সপ্তায় শনিবার ও বুধবার দুই দিন হাট বসে। এই দুইদিন দুইটি স্কুলের প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা ভ্যানগাড়ি, ভটভটি, সাইকেল ও ট্রাকসহ লোকজনের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে এপাশ ওপাশ কাটিয়ে কোন রকমে স্কুলে যাতায়াত করছে। ছেলে শিক্ষার্থীরা হাটের ভীড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে যাতায়াত করলেও এভাবে যাতায়াতে বিপাকে পড়েছেন মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এ কারণে অনেক অভিভাবক হাট-বাজারের দিন তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দেয় না। স্কুলে যাতয়াতের পরিবেশের অভাবে সপ্তায় দুইদিন যদি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে না পারে তাহলে বছরে প্রায় ১শ দিন তারা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দিবস ও এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীনসহ প্রায় ছয় মাস পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত থাকে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকেরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এমন কি বদলগাছী থানার ফটক পর্যন্ত দখল করে হাট-বাজার চললেও পুলিশ প্রশাসনেরও কোন মাথাব্যাথা নেই। স্থানীয় একজন অভিভাবক জানান, গত কয়েকদিন থেকে তার ছেলেকে কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, হাটের কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। হাটবারের দিন হাটে আসা লোকজনের গুণগুণ শব্দ, সেইসঙ্গে হকারদের মাইকের শব্দে কিছুই শোনা যায় না। বিষয়টি নিয়ে বহুবার হাট-বাজার কর্তৃপক্ষসহ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেও কোন লাভ হয় নি। পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ সিংহ জানান, আমি আর কি বলবো। কাদাপানিতে ছেলে মেয়েরা স্কুলে আসতে পারছে না ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত বলেন, বিষয়টির সমাধান খুবই জরুরি। কিন্ত নতুন হাটের জায়গায় হাট বসানোর উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত হাট সরিয়ে নেয়া যাচ্ছে না।