বদলগাছীতে সড়কের গাছকাটতে না দেয়ায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর উপর নবনির্মিত সেঁতুর এপ্রোচ সড়ক সীমানায় থাকা পুরাতন একটি এন্ট্রি কড়ই গাছ ব্যক্তি মালিকানা দাবি করায় গাছ কাটতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জণপথ বিভাগ বলছে গাছটি তাদের আর স্থানীয় ব্যক্তি দবির উদ্দীন ও তার পরিবারের দাবী গাছটি তাদের। সেটি সঠিকভাবে পরিমাপ যোগ না করেই অবৈধভাবে হাত দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থায় গত শুক্রবার গাছ কাটতে গেলে তারা গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। এদিকে গাছ কাটতে না পারায় ১২ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর উপর সেনপাড়া মৌজায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি ব্র্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রীজটির পূর্বপার্শ্বে দুটি এপ্রোচ সড়ক রয়েছে। যার একটি বদলগাছী থেকে সেঁতু পার হয়ে ঐতিহাসিক বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুর হয়ে জয়পুরহাট আর অপরটি পাশ্ববর্তী আক্কেলপুর সংযোগ সড়কে পৌঁচ্ছে। কিন্তু আক্কেলপুর সংযোগ সড়ক সংলগ্ন ডান পার্শ্বে ১৩২ নং দাগে একটি বহু বছরের পুরাতন এন্ট্রি কড়ই গাছ আছে। আর ওই গাছ সংলগ্ন মৃত-বদির উদ্দিনের ছেলে দবির উদ্দিন (৬৫) এর একটি বাড়ি আছে। এতদিন সকলেই চুপচাপ থাকলেও ব্রীজ নির্মাণকালীন সময়ে দবির উদ্দিন গাছটি তার বলে দাবী করে জেলা পরিষদে আবেদন করে। এরই ধারাবাহিকতায় মাপযোগ শেষে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  লিখিতভাবে ২০১৫ সালের ২৮ জুন তারিখে তার দাবী নাকজ করে দেয়। তার পরও দবির উদ্দিন গাছটি তার দাবী করে আসছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, গাছটি কাটতে বাধা দেয়ায় সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা পরিষদের নিয়োগকৃত ঠিকাদার সাজেদুর রহমান বলেন টেন্ডারের মাধ্যমে গাছটি কিনে নেওয়ার পর কয়েক দফা গাছ কাটার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হই। গত বৃহস্পতিবার থেকে একজন ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে এপ্রোচ সড়কের ভিতরের এট্রি কড়ই গাছটি কাটা শুরু হয়। গত শুক্রবার ম্যাজিষ্ট্রেট অপর একটি সরকারি গুরুত্বপূর্র্ণ কাজে যায়। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গত শুক্রবার গাছ কাটতে শুরু করলে দবির উদ্দীনের পরিবার তা বাধা প্রদান করে গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। নওগাঁর সড়ক ও জনপথের সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ বলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা পরিষদ ও ভূমি অফিস সম্মিলিত জরিপে দেখেছে গাছটি সরকারের। আর তাই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারকে গাছটি কাটার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পরিষদ।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, জরিপ অনুযায়ী দবির উদ্দিনের বাড়ির দেয়ালসহ ওই গাছটি জেলা পরিষদের গেজেটভুক্ত জায়গার মধ্যে পড়েছে। আর তাই রাস্তার কাজের স্বার্থে গাছটি কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এই গাছ কাটতে না পারায় এপ্রোচ সড়কের কাজটি শেষ করা যাচ্ছে না। যার কারণে ব্রীজটি জনসাধারনের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজটি বুঝিয়ে দিতে হবে বলেও তিনি জানান ।
দবির উদ্দিন ও ছেলে এমরান হোসেন জানান, জায়গাটি তাদের ব্যক্তি মালিকানা। গত ৩৭ বছর ধরেই তারা ওই জায়গাটি ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু তারা সঠিক পরিমাপ না করেই অবৈধভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা পরিষদ গাছটির অনেকাংশ কেটে নিয়ে গেছেন। এখন শুধু কান্ডটি পড়ে আছে। তাদের দাবী জনস্বার্থে সরকারি কাজ হচ্ছে বলেই তারা এতদিনেও বড় ধরনের আইনী সহায়তা নেননি। তবে আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে সুরাহা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া তাদের আর কোন পথ খোলা থাকবেনা বলেও তারা জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ