বন্ধুত্বে ‘নতুন মাত্রা’ দিতে দিল্লিতে হাসিনা

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি- সংগৃহীত

সহযোগিতার সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার সফরে দিল্লি পৌঁছে বিমানবন্দরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার এই সফরে ভারতের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিন ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ আকাশ প্রদীপ শুক্রবার বেলা ১২টা ৫ মিনিটে নয়া দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছায়।
শেখ হাসিনা বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলে নরেন্দ্র মোদী তার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে করমর্দন করেন। তারা দুজনে কুশল বিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন মোদী সরকারের বাঙালি প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।
দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এবং ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও উপস্থিত ছিলেন এ সময়।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শেখ হাসিনাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন মোদী। বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় রাইসিনা হিলে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে। এই সফরে সেখানেই থাকবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী বাবুল সুপ্রিয়রই বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল। কিন্তু সৌহার্দ্যের নজির হিসেবে মোদী নিজেই বিমানবন্দরে হাজির হয়ে হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, যাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে বর্ণনা করেছেন ‘একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতি উষ্ণ অভ্যর্থনা’ হিসেবে।
আর শেখ হাসিনার হাতে ফুল তুলে দেওয়ার ছবি টুইট করে মোদী লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
পরে আরেক টুইটে মোদী বলেন, “আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমি সংকল্পবদ্ধ।”
চার দিনের এই সফরের প্রাক্কালে শুক্রবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক হিন্দুতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
তিনি সেখানে বলেন, “আমি আশা করি, এই সফরের মধ্যে দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।”
তৃতীয় দফায় বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ভারতে শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের বছরের ১৯ অগাস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত অক্টোবর গোয়ায় গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এই দুটির কোনোটিই দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না।
ভারতের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বৃহস্পতিবার একদল বাংলাদেশি সাংবাদিককে বলেন, “আমরা সবাই আগ্রহ নিয়ে ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছি। এই বৈঠক আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, গত তিন বছরে দুই দেশের আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়নে ‘নজিরবিহীনভাবে’ সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।
“আমাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা রয়েছে। ১৯৭১ সালের পর কখনও দুই দেশের মধ্যে এমন আস্থা ছিল বলে আমার মনে হয় না।”- বিডিনিউজ