বন্ধুর চোখের আলো ফেরাতে সাহায্যের আবেদন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২, ১১:১৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


চিকিৎসায় সর্বস্ব ফুরিয়ে চোখের আলো হারাতে বসেছে রাজশাহী কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। অর্থের অভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা। বিষয়টি জানার পরপরই ওই বন্ধুসহ বিভাগের জুনিয়ররা মাঠে নেমেছে সাহায্যের আবেদন নিয়ে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত ‘একটি মানবিক আবেদন’ লিখা স্টিকার সম্বলিত একটি বক্সে ওই শিক্ষার্থীর সমস্যা তুলে ধরে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অর্থ সহায়তা চাইতে দেখা যায় ওই বিভাগের বেশকিছু শিক্ষার্থীকে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর নাম সারোয়ার হোসেন। সে পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। সে কাটাখালি চকবিলবাড়িয়া এলাকার মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। তার মায়ের সংসার বলতে এখন সে আর মা। অন্য ভাইগুলো আর কেউ খোঁজ নেয় না।

সারোয়ার হোসেন জানান, হাইপার টেনশন ও অভ্যান্তরীণ রক্তক্ষরণে ২০২১ সালের প্রথম দিকে তার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর রাজশাহীতে চিকিৎসা শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ আই হসপিটালে অপারেশন করান। তার রেটিনা মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। ডাক্তার আবারও অপারেশনের জন্য বলেছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা পারছেন না।

তিনি আরও জানান, চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে সে এখন নিঃস্ব। ৩ লক্ষ টাকার অধিক এরইমধ্যে খরচ করেছেন। এখন আরেকটি অপারেশনের জন্য প্রায় ১ লক্ষ টাকার মতো প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, একদিকে অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসার স্থবিরতা অপরদিকে, দিন দিন অন্ধত্বের দিকে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রাজশাহী কলেক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সাহায্যের আবেদন করেন তিনি।

এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আব্দুল হাদি জানান, তার বিভাগের একজন ভাই এমন বিপদে পড়েছেন। সেটা শুনে আর বসে থাকতে পারেন নি। বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সাহায্যের জন্য গেছেন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিত্তশালীদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড.আব্দুল মজিদ আকন্দ এর সরাসরি তত্ববধানে তারা এই পর্যন্ত ২২ হাজার ১১৮ টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সামনে কলেজ দু’দিন ছুটি। তারপরও যতটুকু সম্ভব করবেন।