বন্ধ হলো ১৯৭ টি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

আপডেট: জুন ২, ২০২২, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


স্বাস্থ্য বিভাগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পর রাজশাহী বিভাগে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বুধবার (১ জুন) পর্যন্ত বিভাগে ১৯৭ টি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সেবায় প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার দায়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৮ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা।

রাজশাহী বিভাগে কি পরিমাণ অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে এর নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা জানাতে পারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
তবে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের তালিকায় রয়েছে ১৬৪ টি। এর বাইরেও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে অভিযান চলমান রয়েছে।

এরমধ্যে বুধবার (১ জুন) অভিযান চালিয়ে ৩৭ টি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার তানোর উপজেলায় ১ টি, চারঘাটে ২ টি, বাগমারায় ৮ টি, পবায় ৬ টি, দূর্গাপুরে ৩ টি, বাঘায় ১১ টি, গোদাগাড়ীতে ৩ টি, মোহনপুরে একটি বন্ধ ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার জরিমানাসহ নগরীতে ২ টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভাগে বৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ১৪৪৩ টি। এরমধ্যে রাজশাহী জেলায় রয়েছে ২৮৬ টি। প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) আওতায় রাজশাহী নগরীতে ১৩০ টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যারা দাবি করছেন তাদের প্রত্যেকেরই নিবন্ধন রয়েছে।

নিবন্ধন না থাকাসহ নবায়ন করা হয় নি এমন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে বৈধ দাবি করলেও এমন অভিযানের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) এর রাজশাহী জেলা শাখার নেতারা।

বিপিএইচসিডিওএ এর রাজশাহী জেলা শাখার সহ-সভাপতি ড. ফয়সাল কবির চৌধুরী জানান, যে পন্থায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিবেচনা করছেন তা অন্যায়। নিবন্ধন নিতে বা নবায়ন করতে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৮ ধরনের লাইসেন্স নিতে হয়।

এই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে দূর্ভোগ ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই অনেক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার আবেদন করেও নবায়ন করতে পারছে না। লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার জটিলতার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সিভিল সার্জনের উপর বর্তায়।

তিনি জানান, একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও সিভিল সার্জন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে রির্পোট দেন নি। এর দায়ভার কেন? ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নিবন্ধন নীতিমালা মেনে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বৈধতা পায়। এর ব্যতয় হলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযান অব্যহত থাকবে।

রাজশাহী বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, চোর কাউকে বলে চুরি করে না। তেমনি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোও ওইভাবেই গজিয়ে উঠেছে। এজন্য তাদের তালিকা নেই। আর অনেক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আবেদন করার পর আর কোন ধরনের যোগাযোগ করেন নি। খোঁড়া অজুহাত দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করা থেকে বিরত থাকছেন।

এ কারণেই কেন্দ্রীয় এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। আর যারা নিবন্ধনের আবেদন করেছেন বলছেন তাদের অধিকাংশের সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি দপ্তর যেমন: পরিবেশ অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর এসবের লাইসেন্স নেই।

এখন কেউ পরিবেশের নিয়ম না মেনে, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়োগ না দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাবে আর লাইসেন্স প্রত্যাশা করবেন এটা হতে পারে না। নিবন্ধন পেতে বা নিবন্ধন নবায়ন করতে আগে শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। অন্যথায় সেবা দিতে গিয়ে রোগী মারবেন, এমন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেয়া হবে না।