বন্যাকে উপেক্ষা করে চলছে ধান কাটা-মাড়াই || ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৭, ১১:১১ অপরাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর


রাণীনগরে বন্যাকে উপেক্ষা করেই কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরে চলমান বন্যাকে উপেক্ষা করে চলছে আউশধান কাটা-মাড়াইয়ের ধুম। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। দেশে যখন উজান থেকে আসা পানিতে নওগাঁর আত্রাই (ছোট যমুনা) নদীতে বন্যার পানি দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে রাণীনগরের নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে, ঠিক তখনই উন্নত মানের চাল উৎপাদনে বিখ্যাত জেলার রাণীনগর উপজেলার আউশধান চাষে বিখ্যাত একাডালা ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াই।
সম্প্রতি উপজেলার দুইটি বেড়িবাঁধের তিনটি মূলবাঁধ ভেঙে পানিতে প্লাবিত হয় উপজেলার রাণীনগর সদর, কাশিমপুর, গোনা, মিরাট, বড়গাছা ইউনিয়নের প্রায় ৫৮টি গ্রাম। এই বন্যার কারণে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার একডালা ইউনিয়ন ও এর আশেপাশের মোট তিন হাজার ২২০ হেক্টর উচু জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১শ হেক্টর আউশ ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এবং এক হাজার ৫শ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। উপজেলায় হঠাৎ করে উজানের পানি আসার কারণে বন্যা দেখা দেওয়ায় কৃষকরা একটু আগেই আউশ ধান কাটা শুরু করেছেন। ধানের দাম ভালো থাকায় শুরু করেছেন মাড়াইয়ের কাজ। প্রতি বিঘা জমিতে আউশ ধানের ফলন হয়েছে প্রায় ১৫ মণ।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের বাড়ির উঠানে চলছে আউশধান মাড়াইয়ের কাজ। অপরদিকে উপজেলায় বন্যার কারণে গো-খাদ্যের চরম সঙ্কট হওয়ায় আউশধানের এই খড়গুলো খাদ্য হিসেবে যোগান দিচ্ছে। শিয়ালা গ্রামের কৃষক এবাদুল হক জানান, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে আউশধানের আবাদ করেছেন। ফলন খুব ভালো পেয়ে তিনি খুশি। উপজেলায় বন্যা আসার কারণে তিনি একটু আগেই ধান কাটা শুরু করেছেন। ধানের দাম ভালো থাকায় লাভের পরিমাণ দ্বিগুন হবে বলে তিনি মনে করেন।
ডাকাহার গ্রামের কৃষক শেখ হাফিজার রহমান জানান, যদিও বা বন্যার পানি এখনো আমাদের মাঠে প্রবেশ করে নি। তবুও আমি বন্যার ভয়ে একটু আগেই ৭বিঘা জমির আউশধান কাটা শুরু করেছি। ফলন বেশি ও খরচ কম হওয়ায় এলাকার কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, উপজেলায় বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ফসলের অনেক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি দ্রুত নেমে না যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ফসলের খেত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে উপজেলার একাডালা ইউনিয়ন ও তার আশেপাশের উচু জমিতে আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বন্যার কারণে কৃষকদের অগ্রিম ধান কাটার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যদি মাঠের পানি সাতদিনের মধ্যে নেমে যায় তাহলে জমিতে আবার স্বল্পকালীন বিভিন্ন প্রজাতির ধান লাগানোর সুযোগ পাবে কৃষকরা। তবে কৃষকদের প্রতিনিয়তই বন্যা পরবর্তি করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।