বন্যার মধ্যেই শুরু হচ্ছে ভোটার নিবন্ধন

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের প্রায় ২৫ লাখ নাগরিককে ভোটার তালিকাভুক্ত করতে ছবি তোলা ও তথ্য নিবন্ধনের কাজ শুরু হচ্ছে।
রোববার থেকে শুরু হয়ে আড়াই মাস ধরে দেশের ৫১৭ উপজেলা নির্বাচন অফিসে তিন ধাপে এই নিবন্ধন কাজ চলবে।
২৫ জুলাই থেকে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে ভোটারযোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন। এসময় ২৫ লাখের মতো ভোটারের তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
হালনাগাদ কর্মসূচি অনুযায়ী ২০ অগাস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮৩টি উপজেলায়, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ২১৬টি উপজেলায় এবং ১৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ১১৮টি উপজেলায় নিবন্ধন চলবে।
তবে দেশে চলমান বন্যায় উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ২৭টি জেলার অন্তত ১৩৩টি উপজেলা কোনো না কোনোভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব এলাকায় নিবন্ধনকাজ পুরোদমে চালানো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মাঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারযোগ্য নাগরিকের তথ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করতে নির্ধারিত নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলতে হবে এবং ডেটা এন্ট্রি দিতে হবে। কিন্তু বন্যার মধ্যে নাগরিকদের কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধিত হওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ছবি তোলা না হলে তারা ভোটার তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না।
এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, “বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে আমাদের। শনিবার সব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে করণীয় বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মতামত নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, যেসব এলাকায় নিবন্ধন কাজ করা সম্ভব হবে না তাদের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সামগ্রী রয়েছে কিনা এবং বন্যায় কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা- তার তথ্য চেয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান এনআইডি উইংয়ের একজন কর্মকর্তা।
“যেহেতু তিন ধাপে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় রয়েছে তাতে বাদ পড়া এলাকাগুলোকে অন্য ধাপে স্থানান্তর করা যেতে পারে। মাঠ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন নিয়ে প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়ে কমিশনকে সুপারিশ রাখব,” বলেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব।
এবার হালনাগাদে ২৫ লাখ নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের হালনাগাদে ভোটারযোগ্য আরও ৯ লাখ ৬২ হাজারের তথ্য নিবন্ধিত রয়েছে। সেই সঙ্গে ১৩ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি মৃত ভোটারের তথ্য নেওয়া হয়েছে, যারা তালিকা থেকে বাদ যাবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৃত ভোটারদের নাম বিদ্যমান তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ১৮ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকার জন্যে মুদ্রণ কাজে সরবরাহ করা হবে।
আগামী বছরের ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি-নিষ্পত্তি শেষে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ