বরখাস্ত হওয়া টিটিইকে তদন্ত কমিটির তলব

আপডেট: মে ৭, ২০২২, ৯:৫০ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:


রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমনের সময় ৩ যাত্রীকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করার পর ভ্রাম্যমান টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ মে) বরখাস্ত হওয়া টিটিই শরিফুল ইসলামকে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে তলব করেছিলো তদন্ত কমিটি।

পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী পরিবহণ কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম বাবুকে প্রধান এবং সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি শুক্রবার রাতে গঠন করা হয়। পশ্চিমাঞ্চল রেলের (রাজশাহী) মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান এটিও সাজেদুল ইসলাম বাবু জানান, ২ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা তিনি শনিবার পাকশী রেল কন্ট্রোলের মাধ্যমে জেনেছেন। রোববার (৮ মে) সকালে পাকশী থেকে সরেজমিন তদন্ত শুরু করা হবে। এ সময়ের মধ্যে কর্তব্যরত টিটিই, গার্ড, বিনা টিকিটধারী ৩ ট্রেনযাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে বক্তব্য নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৭ মে) সরেজমিন ঈশ্বরদীর নূরমহল এলাকায় গেলে ট্রেনযাত্রী হাসানের ভাই হোসেন জানায়, রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনি মুঠোফোনে ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলামকে বলেন, আমার তিন আত্মীয় সুন্দরবন ট্রেনে ঢাকা যাবেন। তাদের টিকিট কেটে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কর্তব্যরত গার্ড শরিফুল ইসলাম জানান, মিসেস মন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন তবে তাদের টিকিট কেটেই ট্রেনে যাত্রার কথা বলেন।

ট্রেনযাত্রী ওই ৩ জন দাবি করেছেন তারা কাউন্টারে ও অনলাইনে টিকিট পাননি। ওই ৩ ট্রেনযাত্রী হলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনি’র দুই মামাতো ভাই ওমর ও হাসান এবং ভাগ্নে প্রান্ত। তাদের বাড়ি ঈশ্বরদী শহরের নূরমহল এলাকায়।

ঘটনার রাতে ওই তিন যাত্রী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ক’ এসি কোচের ১৫ থেকে ১৭ নং আসনে যাত্রা করেন। খুলনা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ওই এসি কামরার টিকিট খুলনা থেকে বণ্টন করে রাখা হয়েছিল বলে রেলের একটি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) (চলতি দায়িত্ব) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনাটি তদন্ত কমিটি তদন্ত করে জানাবেন। খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংসন স্টেশন থেকে উল্লিখিত ৩ জন যাত্রী বিনা টিকিটে এসি কোচের ‘ক’ কেবিনে চেপে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

এসময় কর্তব্যরত টিটিই মো. শফিকুল ইসলাম তাদের নিকট টিকিট দেখতে চাইলে তারা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেন। টিটিই বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিও) মো. নুরুল আলমের পরামর্শে তিনি সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে এসি টিকিট না করিয়ে সাধারণ কোচের টিকিট সুলভ শ্রেণির নন এসি কোচে সাধারণ আসনের টিকিট বানিয়ে দেন।

পরে ওই ট্রেনযাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে মো. শফিকুল ইসলাম নামের ওই টিটিইকে বরখাস্ত করেন পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। শফিকুল ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংসন স্টেশন ঈশ্বরদী টিটিই হেডকোয়ার্টারে কর্মরত। এদিকে এ ঘটনায় ঈশ্বরদীসহ সারা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ