বরিশালে ইউএনওকে নাজেহাল || অতি উৎসাহীদের ব্যাপারে সাবধান!

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বিকৃত’ ছবি কার্ডে প্রকাশের অভিযোগের মামলায় বুধবার বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানের দুই ঘণ্টা হাজতবাসের ঘটনাটি ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনায় খোদ প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভ জানিয়ে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছে তারা। নিন্দা জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। তারা এর সাথে জড়িতদের শাস্তিও দাবি করেছে।  দেশের গণমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছে। খোদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে এ ধরনের নাজেহাওেলর ঘটনা সর্বমহলে নিন্দিত হচ্ছে।
তারিক সালমান বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছিলেন অভিযোগ করে গত ৭ জুন মামলা দায়ের করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। শিশুর হাতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে কার্ড প্রকাশ করেছিলেন ওই ইউএনও।
অভিযোগের ধরণ, মামলা গ্রহণ ও হাজতে প্রেরণÑ পুরো প্রক্রিয়াটাই বড় প্রশ্নবিদ্ধ। সংশ্লিষ্টরা বোধকরি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন নি। এটি সত্যিই খুব অবাক করার মত ব্যাপার। বিষয়টি ব্যাপক পর্যালোচনা করে দেখার দাবি রাখে।
বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির কাছে পরম স্পর্শী-শ্রদ্ধার ব্যাপার। যে কোনোভাবে তাঁর মর্যাদাহানির ঘটনা হবে অমার্জনীয় অপরাধ। কিন্তু সীমাহীন কৌতুহল প্রবণতা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাÑ একইসাথে বিড়ম্বনারও সৃষ্টি করতে পারে, বরিশালের ঘটনা তারই প্রমাণ। যুক্তি ও জ্ঞান দ্বারা যদি ঘটনা বিশ্লেষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচিত না হয় তা হলে এমন বিড়ম্বিত ঘটনা ঘটতেই থাকবে। দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তি ও জ্ঞানকে প্রাধান্য দিতে হবে। কার বিরুদ্ধে কী ও কোন ধরনের অভিযোগ, কেনই বা অভিযোগ তা বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়াই সমীচীন হবে।
অতি উৎসাহী, ধান্দাবাজদের কাছে সবসময়ই পছন্দ ক্ষমতাসীন দল, দলের নেতা কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তি। তাদের ছত্রছায়ায় থেকে কুঁই কুঁই করে লেজ নড়ানোয় এদের আচরণ-বৈশিষ্ট্য। এদের নান্দনিক লেজ নড়ানোর ভঙ্গিতে অনেক নেতাই এতোই বিমুগ্ধ হন যে, বাস্তবিক হিতাহিত জ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন।  প্রশংসার জোয়ারে নেতাকে সবসময় ভাসিয়ে রাখেÑ আর নেতাও নিজেকে  দেবতাও ভাবতে থাকেন। আর এমন পরিস্থিতিই গণমানুষ থেকে নেতাকে কিংবা জনপ্রিয় দলকে বিচ্ছন্ন করে ফেলে। এই যে পায়ের নিচের মাটি ক্রমশ সরে যায় তা নেতা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে চেষ্টা করেন নাÑ তার অধঃপতনের মাত্রা কোন পর্যায়ে ঠেকেছে। যখন বুঝেন তখন সব কিছু হারিয়ে যায়, নাগালের মধ্যে থাকে না। অতিউৎসাহী, চাটুকারেরা আগেই সটকে পড়ে। এই পরিণতির জন্য শুধু নেতাই ভাগ্য বিড়ম্বিত হন নাÑ দেশ ও জনগণকেও এর মাশুল গুণতে হয়। সমাজের অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ক্ষমতার স্টিরিয়ারিঙে তারাই হাত রাখে। প্রগতির চাকা পেছনের দিকে চলকে শুরু করে। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতি সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অমন উদাহরণ জাতি নিশ্চয় আর চায় না। রাজনীতিকরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে চায় নাÑ ফলে বিড়ম্বিত জনগণ স্বপ্ন সূচনায় বার বার হোঁচট খায়, স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার চয়ে যায়।
দেশের মানুষ এই স্বপ্ন সূচনাকে আর ভাঙতে দিতে চায় না। দেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি উন্নত মর্যাদাশীল দেশ হিসেবেই দেখতে চায়। চায় নিজেদের আর্থিক ও মনোজাগতিক অবস্থার উন্নয়ন।
কিন্তু দলের মধ্যে হাইব্রিড আর অতি উৎসাহী কর্মী-সমর্থকদের অতি বাড়-বাড়ন্ত। এদেরকে দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বললেও অত্যুক্তি হয় না। এদের কে প্রতিরোধের সময় এসেছে। আর এ সিদ্ধান্ত দলের মধ্য থেকেই নিতে হবে। নতুবা রাজনৈতিক দল ও জনগণ পরস্পরমুখি হয়ে যায়।  নিশ্চয় সেই ঝুঁকি ক্ষমতাসীন দল নিতে চাইবে না। এদের সঙ্গ ত্যাগই জনগণের সম্পৃক্ততাকে নিবিড় করে, দলকে শক্তিশালী করে এ সত্য ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে ও যেমন সকল রাজনৈতিক দলের জন্যও সমান সত্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ