বরেন্দ্রভূমিতে কমলা চাষে সফলতা পেলেন মতিউর

আপডেট: November 15, 2020, 8:45 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত আমনুরায় মতিউর রহমান গড়ে তোলেন মনামিনা কৃষি খামার। তিনি খামারটি মূলত ফলের বাগান হিসেবে গড়ে তোলেন। প্রথমে মাল্টা চাষ করে লাভবানের পর এবার তিনি কমলালেবুর চাষ শুরু করেন। ৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া ও চায়না থেকে ম্যান্ডারিন জাতের কমলার ৬ শতাধিক চারা রোপন করেন। কিছু গাছ মারা গেলেও প্রায় ৫ শত গাছ বড় হতে থাকে। গত বছর ফল কম আসলেও চলতি বছর প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় কমলা শোভাবর্ধন করছে। অনেক দর্শনার্থী বাগানে গিয়ে ঘুরেফিরে দেখছেন এবং কিছু পাকা কমলা ক্রয় করে বাড়ি ফিরছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কমলার ফলন দেখে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক চাষের ব্যাপারে আশাবাদি হয়ে উঠেছেন।
খামারের মালিক মতিউর রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জামতাড়া এলাকায় প্রায় ২৬ বিঘা জমি নিয়ে পেয়ারা ও মালটা বাগান গড়ে তুলেন। ৩ বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে আশানুরূপ ফলন হলে ব্যাপকভাবে লাভবান তিনি। তিনি সফলভাবে ফলের খামার তৈরি করায় খ্যাতি অর্জন ও বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি আরও জানান, তার প্রায় ৫ শত গাছে প্রচুর কমলা এসেছে যা মনকে ভরিয়ে দিবে। শুধু দেখতে নয় মাল্টা ও কমলাও বেশ সুস্বাদু। চলতি বছর ৫ লক্ষ টাকার কমলা বিক্রি হবে এবং আগামীতে আরও বেশি বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহম্মদ বখতিয়ার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস ও জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ খামার পরিদর্শন করেন। এভাবে কমলার চাষ করলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের মানুষ ক্রয় করতে পারবে। ইতোমধ্যে মতিউর রহমান কমলার চারা উৎপাদন ও বিক্রি করেছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে চারা কিনে বাড়ির আশেপাশে কমলার চারা রোপন করছেন। অনেকেই সপরিবারে কমলার বাগান ঘুরতে এসে কমলা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।