বরেন্দ্রের লাল মাটিতে কালো ধান চাষ

আপডেট: December 6, 2020, 12:12 am

এ, কে, তোতা, গোদাগাড়ী :


বরেন্দ্রের লাল মাটিতে কালো (ব্ল্যাক রাইস) ধান চাষ করছেন দুই কৃষক মুক্তার আলী ও মনির হোসেন। অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত দামি এই চালের ধান বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে সফল হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী ধান গম চাষের পাশাপাশি অর্থকরি ফসল চাষ করে থাকেন। স্থানীয় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে ১ বিঘা জমিতে কালো ধান চাষ করে। চাষ করতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা খরচ হলেও উৎপাদন হয়েছে বিঘায় ১৫ মণ ধান। ধান থেকে চাল তৈরি করে বাজারে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। কৃষক মুক্তার আলী আরো বলেন, বীজের জন্য ১ মণ কালো ধান রেখে বাকি টুকু বিক্রি করে দিবেন। ১ বিঘায় ১ কেজি কালো ধানের বীজ প্রয়োজন হয়। পার্বত্য অঞ্চল থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যে ১ কেজি বীজ সংগ্রহ করেছিল এই কৃষক। বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত চৈতন্যপুরের আদর্শ কৃষক মনির হোসেন ১০ কাঠা জমিতে কালো ধান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় আগামীতে চাষকৃত জমির পরিমাণ বাড়াবে। উৎপাদিত ধানের পুরোটায় বীজের জন্য রেখে দেবেন এই কৃষক।
দেওপাড়া ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, কালো ধান চাষাবাদ অন্যান্য আধুনিক ধানের চাষাবাদের মতোই। এতে কোনো অতিরিক্ত সার বা পানির প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না আলাদা কোনো পরিচর্যার। কালো ধান আমন মৌসুমে বেশি ভালো হয়। কালো ধানের চাল খেতে সুস্বাদু কম হলেও এর পুষ্টিগুন এতটাই বেশি যে, ক্যান্সার, ডায়বেটিকসসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই চাল অত্যন্ত কার্যকরি। বাজারে এই চালের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, অনেক দামি ও দুর্লভ কালো ধান রোপন করে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে প্রচুর লাভবান হবে। উপজেলার দুই কৃষক কালো ধান চাষ করে সফলতা পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা কালো ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, কালো ধান অল্প পরিমাণে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে চাষ হয়। এর আগে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারত ও চিনে কালো ধান চাষ শুরু করে। এ সব দেশ থেকেই বীজ সংগ্রহ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কালো ধান চাষ হচ্ছে। উপজেলার আগ্রহী কৃষকদের কালো ধান চাষে সব ধরণের সহযোগিতা করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ