বরেন্দ্রে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২২, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বরেন্দ্রের মাঠজুড়ে, কৃষকের চোখজুড়ে, প্রাণজুড়ে সোনারাঙা বোরো ধান। সোনার ফনল ঘওে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরইমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখনো অনেক খেতের ধান পরিপক্ব হয় নি, সোনা রঙ ছড়ায়নি। শেষ সময়ে ধানের যতœ নিতেও ব্যস্ত চাষীরা। এবার তেমন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ছিল না। ফলন আশাব্যঞ্জক, বাম্পার ফলনের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে রাজশাহীতে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৬ হাজার ১৪০ হেক্টও জমি। এরমধ্যে উফশি জাতের ৫৯ হাজার ৬৪০ হেক্টর এবং হাইব্রিড ৬ হাজার ৫০০ হেক্টও জমি। যা গতবছর ছিলো ৬৬ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমি। তবে ২০২১-২২ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এবার প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৭৪ মেট্রিক টন।

কৃষকরা বলছেন, এবারের আবহওয়া বোরো ধানের জন্য খুব একটা ভালো না হলেও খারাপ ছিলো না। প্রচণ্ড গরমসহ আকাশের বৃষ্টির দেখা তেমন পাওয়া যায় নি। ভূ-গর্ভস্থ পানি-নির্ভরতায় চাষ করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে দিনশেষে ফসল ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সব জমির ধান কৃষকের ঘরে উঠেছে সেখানে গড় ফলন ২০ মণের উপরে রয়েছে। মাঠে যে ধান আছে সেখানেও ফলন ভালো হবে বলেই আশা করছেন চাষীরা।

পবা উপজেলার চাষী সাবিয়ার হোসেন জানান, তিনি প্রতি বছরই তিন-চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন। যা তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের সারা বছরের ভাতের জন্য আর ভাবতে হয় না। এবারও তিন বিঘায় বোরোর আবাদ করেছেন। ধান ঘরে তুলতে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

উপজেলার আরেক কৃষক সাত্তার আলী জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। উৎপাদন খরচ প্রতিবছরই বাড়ে। এবারও গত বছরের চেয়ে বেশি। তবে ধান চাষ তেমন লাভজনক না। দাম ভালো থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখা যায়। এবার শুরু থেকেই ধানের দাম বেশি। দাম থাকলে কিছু ধান বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) তৌফিকুর রহমান জানান, বোরো আবাদে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রণোদনা সুবিধা দেয়া হয়েছে। অনেক চাষীকে সার-বীজসহ কৃষি তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ধানের চারা রোপন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আবহওয়া ভালো আছে।

মাঝে একবার ঝড়ো বাতাসে কিছু জায়গায় ধান গাছ পড়ে গিয়েছিলো। যেগুলো এখন স্বাভাবিক আছে। সবমিলিয়ে আবহওয়াসহ সবকিছুই অনুকূলে। খেতের ধানও অনেক সুন্দর। ফলনও আশানুরূপ বলে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি আছে ৭৫ শতাংশ। মাস খানেকের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ