বরেন্দ্র অঞ্চলে রাসায়নিক ছেড়ে জৈব সার ব্যবহারে ঝুঁকছেন কৃষকরা

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ


একে তোতা, গোদাগাড়ী
বরেন্দ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার। বিষমুক্ত ফল ও ফসল চাষে এ জৈব সারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কমেছে রাসায়নিক সারের ব্যবহার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা, নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট, নঁওগার সাপাহার, পোরশা, নিয়মতপুর, মহাদেবপুরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় বিষমুক্ত পেয়ারা ও মাল্টার ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এ দুইটি ফল চাষে ব্যবহার করা হয় জৈব সার। ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, শাকসবজির চাষে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার বাড়ছে। এতে করে জৈব সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার উৎপাদনে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপালপুর, সোনাদিঘি, ঈশ্বরীপুর, বিদিরপুর এলাকায় কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন করে কৃষকরা নিজের ফসলি জমিতে ব্যবহার পাশাপাশি অন্য কৃষকের কাছে সরবরাহ করছে। উপজেলার সোনাদিঘি গ্রামের কৃষক ছোটন মিয়া ১৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেছে। ১৫ টাকার কেজি দরে জৈব সার ক্রয় করে চাষকৃত পেয়ারা জমিতে দিয়ে আসছিল। ক্রয়কৃত সারের গুণগত মান কম হওয়ায় বেশি পরিমাণে জৈব সার দিতে হয় জমিতে। বেশি সারের কারণে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছিল। এ কৃষক বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে বিদিরপুর ব্লকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল হকের পরামর্শ ও কারিগরী সহযোগিতায় নিজেই কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন শুরু করি। প্রতি কেজি জৈব সার উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৬ টাকা। নিজের পেয়ারা চাষকৃত জমিতে ব্যবহার ছাড়াও অন্য কৃষকের কাছে উৎপাদিত এ জৈব সার সরবরাহ করছি। গত মাস থেকে কৃষক ছোটন মিয়া বাণিজ্যিকভাবে কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন করছেন।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল হক বলেন, কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদনে গরু ও মহিষের গোবর, খৈল ও ধান চাউলের গুড়া উপাদান হিসাবে ব্যবহার হয়। ৪ কেজি গোবরের সঙ্গে ১ কেজি খৈল ও ২ কেজি ধান চাউলের গুড়া মিশিয়ে মাটির ওপর রেখে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ২৫ দিন পর তৈরি হয়ে যাবে ৬ কেজি কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার। এক সঙ্গে গোবর, খৈল ও ধান চাউলের গুড়া দিয়ে একই পদ্ধতিতে বেশি পরিমাণে কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন হবে।
সোনাদিঘি আরেক কৃষক আবদুল ওয়াদুদ কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন করে ১০ বিঘা পেয়ারা চাষকৃত জমি ছাড়াও ধান ও শাকসবজি চাষে ব্যবহার করছেন। এ কৃষক বলেন, উৎপাদন খরচ যেমন সাশ্রয় হচ্ছে  তেমনি বাণিজ্যিকভাবে কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছি। উপজেলা বাঙ্গাবাড়ি কৃষক সুমন আলী কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন করে সফল হওয়ায় বড় আকারে জৈব সার উৎপাদনে যাওয়ায় এলাকার কয়েক জনের শ্রমিকের স্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তোফিকুর রহমান বলেন, কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার ফসলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এসব সারের ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ভিটামিন রয়েছে। যা মাটির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি করে। উপজেলায় কুইক কম্পোস্ট (দ্রুত) জৈব সার উৎপাদন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, উপজেলার বেশিরভাগ কৃষক এখন জৈব সার ব্যবহার করছে ফল ও বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে। উপজেলার সব কৃষককে জৈব সার ব্যবহারের আওতায় আনতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সচেতনামূলক কৃষক সমাবেশ, সভা ও পরামর্শ ব্যবস্থা করে হচ্ছে নিয়মিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ