বরেন্দ্র আঞ্চলে আমন ধানের দাম কমলেও চালের বাড়তি

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০১৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

এ কে তোতা, গোদাগাড়ী



বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সপ্তার ব্যবধানে প্রতিমণ আমন ধানে দাম কমেছে ৭০ টাকা। হাট-বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধানের দাম আরো কমে যাবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রতি কেজি চালের দাম ২ টাকা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তা আগে হাট-বাজারে প্রতিমণ গুটিস্বর্ণা ধান বিক্রি হয় ৮৩০ টাকা। আর গতকাল মঙ্গলবার বরেন্দ অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিমণ গুটিস্বর্ণা ধান বিক্রি হয়েছে ৭৬০ টাকায়। সুমনস্বর্ণা প্রতিমণ ধান ৮৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৭০ টাকায়। ব্রি-২৮ জাতের  চিকন ধানের দাম স্থিতিশীল আছে। প্রতিমণ ব্রি-২৮ জাতের প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৪০ টাকায়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ভগমান্তপুর, কাঁকন হাট, রাজাবাড়ী, বিদিরপুর, তানোরের মন্ডমালা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা, নাচোল, নিজামপুর, ধানসুরা, আড্ডাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে সরাসরি ধান নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। সরবরাহ বেশি ও কাঁচা ধানের অজুহাত দেখিয়ে কৃষকদের কাছে কম দামে ধান ক্রয় করছেন ব্যবসায়ীরা।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে কম দাম দিতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। ব্যাংক, মহাজনী, এনজিও ঋণ, কীটনাশক সারের দোকানে বকেয়া পরিশোধ ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কৃষকেরা জমি থেকে ধান মাড়াই করে ঘরে গোলায় না তুলে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। গত এক সপ্তার ব্যবধানে  প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা থেকে ৪ টাকা। চাল ক্রয়কারীরা জানান, গুটিস্বর্ণা প্রতি কেজি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর জিরাসাইল (চিকন চাউল) ৪২ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, পারিজা ৩৩ টাকা থেকে ৩৫ টাকা ও ব্রি-২৮ জাতের (চিকন চাউল) ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা চাউল ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারিভাবে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা প্রতি কেজি ১ টাকা থেকে ২ টাকা বেশিতে বিক্রি করছে। এদিকে গত রোববার খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ঘোষণা দেন, খাদ্য বিভাগ প্রতিকেজি ৩৩ টাকা দামে ১ ডিসেম্বর থেকে আমন চাল ক্রয় করবে। কিন্তু খাদ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ধান ও চালের বাজারে প্রভাব পড়ে নি।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাওল কবির বলেন, সরকারিভাবে চাল ক্রয় শুরু হলে এই অঞ্চলে আমন ধানের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চালের দামও কিছুটা কমবে।