বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ ।। তানোরে বেড়ে উঠছে ৩০ হাজার তাল গাছ

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর



তাল গাছ এক পায়ে দাড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে। কবিতাটির মতো বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত তানোরের রাস্তাগুলোর দুই পাশে সারি সারি তালের গাছ দাঁড়িয়ে আকাশে উঁকি মারতে শুরু করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় ভূমিকা রাখে এই তালগাছ। সেজন্য অন্য ৩০ হাজার বেশি তাল গাছের চারা রোপণ করেছিল বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কতৃপক্ষসহ (বিএমডিএ)। সেই তাল গাছ এখন বেড়ে উঠছে।
তানোর আমনুরা যাতায়াতের  রাস্তাসহ অধিকাংশ রাস্তায় এখন শোভা পাচ্ছে তাল গাছ। শিশু, আম, জাম গাছের পরির্বতে শক্ত-মজবুত এবং দীর্ঘজীবি গাছ হওয়ায় ৮ বছর ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তায় লাগানো হচ্ছে তাল গাছ। বিএমডিএ ২০০৮ সাল থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে রাস্তার দুই পাশে রোপন করেছে কয়েক লাখ তালগাছ।
বিএমডিএ তথ্য মতে, ২০০৮ সাল থেকে এ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ও খাড়ির পাশে প্রায় ৭২০ কিলোমিটারের বেশি জায়গা জুড়ে রোপন করা হয়েছে ৩০ হাজার বেশি তাল গাছ। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর, উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউয়িনের রাস্তার দুই পাশে রোপন করা হয়েছে এসব তাল গাছ।
তানোর উপজেলার দেবিপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক হুমায়ন কবির জানান, রাস্তা পাশে তাদের ১২ থেকে ১৫ বিঘা তিন ফসলি জমি রয়েছে। একযুগ আগে এ রাস্তার পাশে শিশুগাছ ছিল। সে সময় গাছের পাতা লতা ও ছায়া পরে তার জমিতে ফসল অনেক কম হতো। বর্তমানে সে শিশুগাছগুলো কেটে বিএমডিএ রাস্তার পাশে তালগাছ লাগিয়েছে। তালগাছ লাগানোর পর থেকে তার জমিতে পাতালতা পড়ে আর ফসল নষ্ট হয়না। ফলনও ভাল হচ্ছে।
তানোর উপজেলা বিএমডিএর জোনের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, তাল একটি ওষুধি গুন সম্পন্ন ফল। তালের শাস খেতেও খুব সুস্বাদু। তাল গাছ খুবই শক্ত, ঝড়ে ভাঙেনা। ফসলের শেল্টার বেল্ট হিসেবে কাজ করে। তাল গাছ ভুমি ক্ষয়রোধ করে। তালপাতা দিয়ে হাতপাখা বানানো যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় ভুমিকা রাখে। বিএমডিএর নিবার্হী  প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, তাল গাছে  ছায়া কম হয় । যার ফলে ফসলী জমি নষ্ট হয় না। আর সেজন্যই তাল গাছ রোপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ গাছ জমির তেমন ক্ষতি সাধন করে না।
বিএমডিএর নিবার্হী পরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, তাল গাছ বর্জপাত থেকে রক্ষা করে। বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সময় গাছপালা খুব কম ছিল। সে সময় গ্রাম গঞ্জে শুধু তাল গাছ চোখে পড়তো। গ্রামের ঐতিহ্য হিসেবে তালগাছকে ধরা হয়। কিন্তু কালের পরির্বতনে তালগাছ বাদ দিয়ে মানুষ শিশুসহ নানা রকম গাছ লাগানো শুরু করে। যেগুলো ছিলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এসব চিন্তা মাথায় রেখে ২০০৮ সালে বিএমডিএ বরেন্দ্র অঞ্চলে জন্য তালগাছের বীজ বপনে প্রকল্প গ্রহণ করে। তালগাছ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের সেই ঐতিহ্য ফিরে আসবে পরিবেশে বান্ধব হবে বলে জানান নির্বাহী পরিচালক।