বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নগর, জেলা, রাবি ও রুয়েট ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এইসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনসহ সমাবেশ।
নগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে ভোর সাড়ে ৬টায় মহানগর ছাত্রলীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, সকাল ১০টায় জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এরপর বিকেল ৫টায় নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণকপাড়া সমাবেশে মিলিত হয়। র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে সন্ধ্যায় কেক কেটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আনিকা ফারিহা জামান অর্না। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, নওশের আলী, নিঘাত পারভীন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, নাঈমুল হুদা রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, সদস্য আহসানুল হক পিন্টু, নগর স্বেচ্ছাসেব লীগের সভাপতি আবদুল মমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান শফিক, সাধারণ সম্পাদক মীর তৌহিদুর রহমান কিটুসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেছেন, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ছাত্রলীগ একই সুত্রে গাঁথা। ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ। স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রলীগ রাজপথে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজির রাজনীতি করার নির্দেশ দেন নি। তাদের লেখাপড়ার পর ছাত্রলীগ রাজনীতি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বক্তব্যে ডাবলু সরকার বলেন, ছাত্রলীগ দেশের রূপরেখা পরিবর্তনে অবদান রেখেছে। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীকে আবার জয়ী করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। লিটন ভাই মেয়র হিসেবে রাজশাহীর যা উন্নয়ন করেছেন, তা কেউ পারে নি। এজন্য সারাদেশসহ বিশ্বের দরবারে রাজশাহী কম দূষণমুক্ত নগরীতে  সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের কোন্দলে ভরপুর। ফলশ্রুতিতে মহানগর বিএনপিতে মিনু-বুলবুলের বিএনপি রক্ষা কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে ছাত্রলীগকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সিঙ্গাপুর ও মালোয়েশিয়ার চেয়েও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
জেলা ছাত্রলীগ : সকাল ৭টায় জেলা ছাত্রলীগ নগরীর লক্ষ্মীপুর দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে। এরপর পতাকা উত্তোলন করে। পরে কামরুজ্জামান চত্বরে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রা শেষে লক্ষ্মীপুর মোড়ে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন, রাজশাহী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আখতার জাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা প্রমুখ।
রাবি ছাত্রলীগ : বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাবির সাবেক ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অনিকা ফারিহা জামান অর্ণা।
উদ্বোধনের পর ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় টেন্টে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুস্পতবক অর্পণ করেন নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠবার্ষিকী কর্মসূচিতে আরো ছিল রক্তদান কর্মসূচি, পথ শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী এবং গরীব-দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু, সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন মুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব, মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কাওসার প্রমুখ।
রুয়েট ছাত্রলীগ : গতকাল সকাল ৭টায় রুয়েট ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ৯টার দিকে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড় এবং সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহাফুজুর রহমান তপুর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন নেতকর্মীরা।
দুপুর দেড়টায় বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অনিকা ফারিহা জামান অর্ণা। এরপর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীর কেক কাটা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রুয়েট উপাচার্য প্রফেসর ড. রফিকুল আলম বেগ, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর এনএইচএম কামরুজ্জামান সরকার, রুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।