বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় রাবি উপচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা-সোনার দেশ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখ পরিবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যাপিত হয়েছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবস। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে পতাকা উত্তোলন, বেলুন-ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে অনুষদ ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সদস্য-সচিব ছাত্রউপদেষ্টা প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর মো. মজিবুল হক আজাদ খান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিনেটভবন চত্বরে উপাচার্য একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে। সেখানে বাদ্য-বাজনা ও বাঁশির মন মাতানো সুরে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব ব্যানারে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় বাদ্য-বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে পুরো ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শুরু হয় আলোচনা সভা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে এবং ছাত্র উপদেষ্টা এম মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম সাইদুর রহমান খান।
এতে আলোচক ছিলেন রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর রকীব আহমদ। এছাড়া প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর গোলাম কবীরও বক্তৃতা করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৬৪ বছর ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশ, জাতি ও সমাজকে আলোকিত করা ছাড়াও জাতির উন্নয়নে এক গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী। জাতির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। এদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জোহা ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী শহীদ হয়েছেন।
জাতির জনকের অন্যতম স্বপ্ন ছিল একটি সত্যনিষ্ঠ জাতি গঠন করার যেখানে কোনো ভেদাভেদ-বৈষম্য থাকবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যতম সারথি। ফলে আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মেধার বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা দেশে লভ্য সর্বোচ্চ ডিগ্রিও অর্জন করতে পারছে।
বক্তারা আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠন একান্ত আবশ্যক। এই চ্যালেঞ্জ পূরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক অগ্রণী ভূমিকায় আছে। সে লক্ষ্যে এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী গ্রাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। শুরু থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোর দিশা দিয়েছে। সেই আলোকয় আলোকিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও গৌরব-দীপ্ত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহ। দেশ-জাতি-সমাজের সম্মিলিত প্রয়াসে অচিরেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এতদঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দসু সোবহান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের অনিঃশ্বেষ আলোকবর্তিকা। এদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত অবদান রয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবাজ্জ¦ল ভূমিকাকে আরো গৌরবান্বিত করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর মিজানুর রহমান আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ১৯৫৩ সালের এই দিনে মাত্র ২০ জন শিক্ষক ও ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।