বর্তমান সরকারের তিন বছর বদলে যাওয়া এক নতুন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের নেৃত্বে মহাজোট সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের তিন বছর অতিক্রম করেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ২০১৪ সালের ৫ জারুয়ারি সহিংস নির্বাচনের পর মহাজোট সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ গ্রহণ করে ওই বছরের ১২ জানুয়ারি।
এই তিন বছরের মূল্যায়ণে বলা হচ্ছে সাফল্যের গল্পকথা। বদলে যাচ্ছে দেশের রাজধানী, বদলে যাচ্ছে দেশ, বদলে যাচ্ছে গ্রাম। প্রবৃদ্ধি এখন সাতের ঘরে। তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আজ শুধুই বাস্তবতা। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের অধ্যায় পেরিয়ে সত্যিকার অর্থেই উন্নয়নের এক ইতিবাচক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ঢাকায় শুরু হচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ। দেশ জুড়ে চলছে একাধিক বিশাল উন্নয়ন কর্মকা-। বিচার চলছে যুদ্ধাপরাধীদের। শাস্তি কার্যকর হচ্ছে। জঙ্গি দমনে রয়েছে একের পর এক সাফল্য।
এর মাঝে টানাপড়েন ছিল। পথ চলতে হোঁচটও খেতে হয়েছে। ছিল জঙ্গিবাদের ভয়ঙ্কর ছোবল। সেই চ্যালেঞ্জ ভালভাবেই মোকাবেলা করছে সরকার। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কোনও আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল না। দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ধারা বেগবানই থেকেছে।
সরকারের তৃতীয় বছরে হরতাল ও অবরোধের মতো বৈরী বাস্তবতা ছিল না। সন্ত্রাসবাদের আঘাত এলেও দ্রুত তা সামলাতে পেরেছে সরকার, প্রশাসন। পরপর প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক, ব্লগার হত্যার মতো ঘটনা থেমেছে। সরকারের গর্ব করার মতো সাফল্যের পুরোভাগে আছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির রায় কার্যকর। দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী আলবদর বাহিনীর নেতা, চট্টগ্রামের মির কাসেম আলির ফাঁসি এ সময়েই কার্যকর হয়েছে। গত তিন বছরে নারী ও যুবশক্তির নব অভ্যুদয় ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কারণে বিনিয়োগেও গতি এসেছে। বিনিয়োগের পরিমাণ এখন ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। ব্যক্তিগত খাতে ঋণপ্রবাহের পরিমাণ ৬ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। বুধবার বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশের জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) তেজি ভাব অব্যাহত থাকবে, যা পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি।
খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৩৯০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। কৃষিঋণ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মাথা পিছু আয়ের পরিমাণ ১,৪৬৫ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৭২)। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ হাজার ৯৮০ মেগাওয়াট। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের মনোযোগ ছিল নজরে পড়ার মতো। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভাল ভূমিকা রাখছে। তৃতীয় বছরে বিদেশে সাত লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
এত সব ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিন্তু এমন অনেক কিছুও রয়ে গেছে, যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বরং অগ্রগতির এই ঢেউকে ধরে রাখতে গেলে এগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ রাজনীতিতে অস্থিরতা না থাকলেও, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার ও সহিষ্ণুতা কিন্তু যথেষ্ট মাত্রায় গড়ে ওঠেনি। নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। রিবর্কাচন কমিশন আইনের কিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়েছে। এটি এখন সময়ের দাবি। ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে সব দল যাতে অংশগ্রহণ করে সেই পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ