বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিলের দাবিতে নগরীতে হরতাল পালিত

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃক বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও সাইনবোর্ড ফি বাতিল এবং সহনীয় পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের দাবিতে গতকাল বোববার অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। ভোর ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এ হরতাল পালিত হয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, হরতালে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ হারতালের ডাক দেয় সামাজিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদ। এতে সমর্থন দেয় ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ, মহানগর মেস মালিক সমিতি, হেরিটেজ রাজশাহী, আরডিএ মালিক সমিতি, গোস্ত ব্যবসায়ী, মাছ ব্যবসায়ী, কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও নদী বাঁচাও আন্দোলনসহ ৮টি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।
নগরীতে এ হরতাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়। নগরীর মূল বাজার সাহেববাজার, সোনাদিঘি, মনিচত্বর ও গণকপাড়া এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। এমনকি হরতালে সমর্থন দিয়ে গতকাল নগরীর সবচেয়ে বড় সবজি বাজার, মাছপট্টি ও গোস্ত পট্টি বন্ধ ছিল। তবে হরতালে ১০টা পর্যন্ত অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল খুব একটা চলাচল না করলেও ১০টার পর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. এনামুল হক বলেছেন, হরতালে রাজশাহী নগরবাসী স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছে। কাচা বাজার, গোস্ত পট্টি, মাছ পট্টি ও আরডিএ মার্কেট থেকে শুরু করে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে শিশুদের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর আরডিএ মার্কেট এলাকায় একটি সমাবেশে ৮০টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ফরিদ হাসান মামুদ সিটি করপোরেশনকে দেয়া চারটি দাবিদাওয়া মেনে নিতে ১৫ দিনের আলটিমেটাম বেঁধে দেন। এই ১৫ দিনের মধ্যে দাবিদাওয়া মেনে নেয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করেন।
এদিকে হরতালে নি¤œ আয়ের মানুষজন দুর্ভোগে পড়ে। ফুটপাত থাকা দোকানপাটও খুলতে না দেয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। গীতারাণী সাহার সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ফুটপাতে একটি চায়ের  স্টল আছে। তিনি সকালে এসে দোকান খুলতে গেলে হরতালকারী তাকে দোকান খুলতে বাধা দেন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে আনা দুধের ডেকচি অনেক কষ্ট করে রিকশা সংগ্রহ করে ফেরত নিয়ে যান।
ফুটপাতে ফলের দোকান আছে অনিল কুমার সাহার। তিনিও হরতালের কারণে দোকান খুলতে পারেন নি। তাকে বলা হলে তিনি বলেন, দোকান খুলতে না পারলে তো লস। একবেলায় কমপক্ষে ৬ হাজার টাকার বিক্রি হত।
উল্লেখ্য, কয়েকদফা সভা-সমাবশে ও সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল রোববার হরতালের ডাক দেয় নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদ।