বর্ষবরণে পদ্মার চরে বর্ণিল আয়োজন

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। দিনটির আর মাত্র তিনদিন বাকি। নতুন বছরকে বরণ করতে নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আর বরণের প্রস্তুতি হিসেবে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। সকলেই চাইছেন একটু ভিন্নভাবে ভিন্ন আদলে নতুন বছরকে বরণ করতে। পিছিয়ে নেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। ব্যতিক্রমি আয়োজনে নতুন বছরটিকে বরণ করতে চাইছেন তারা।
আর এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গোদাগাড়ী মডেল থানার সমনে পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা চরে বৈশাখী মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শুল্ক মৌসুমে পানি কমে পদ্মা নদীর মাঝে ও দুই পাড়ে জেগে উঠেছে চর। আর এসব চর পরিণত হয়েছে ছোট, বড় আর মাঝারিসহ বিভিন্ন আকারের চর।
প্রতিদিনে এইসব চর দেখার জন্য নদীর পাড়ে ভিড় জমায় দর্শনার্থীরা। আর দর্শনার্থীরা যেন মনোরম পরিবেশে পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারেন এজন্য চরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। চরগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ছোট-বড় চরগুলোতে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন আকারের মঞ্চ। লাগানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাতি। সন্ধ্যার পর এ এলাকাটি দেখার জন্য ভিড় করছেন মানুষ। আলোকিত হয়েছে উঠেছে পুরো পদ্মার চর।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকবর আলী বলেন, সপ্তাহব্যাপি অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী মেলা। ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলার প্রবেশ পথ খোলা থাকবে। বৈশাখী মেলায় খাবার ও মনোহারী সামগ্রীর দোকান ছাড়াও ছোটবড় সবার জন্য মিনি সার্কাস, মিউজিক শো, নাগর দোলা, ট্রেন, মোটরসাইকেল খেলা, র‌্যাফেল ড্রর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলায় নির্মিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া পদ্মায় ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন ধরনের নৌকা রয়েছে।
মেলা উদ্বোধনের দিন নৌকাবাইচ ও হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে বৈশাখী মেলার ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মত পদ্মা নদীর দ্বীপে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী।
এদিকে বৈশাখী উৎসব পালন করতে সকাল বেলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ইলিশ ও পান্তা ভাতের আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, বৈশাখের উৎসব পালন হবে সুশৃঙ্খল ও আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে। আর এজন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ