বর্ষবরণে মঙ্গল শোভাযাত্রা

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন


বিশ্বজুড়ে বাস করছে নানা ধরনের জাতি গোষ্ঠির মানুষ। প্রতিটি জাতিরই নিজস্ব সাংস্কৃতিক ধারায় রয়েছে কিছু পার্বণ ও উৎসব। পৃথিবীর নানা অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে এ ধরনের সাংস্কৃতিক পার্বণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।  সভ্যতা বিকাশের প্রারম্ভিকতার দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, তখনকার মানুষের জীবন-জীবিকাটা ছিল সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর। প্রাচীনকালে এ ধরনের উৎসব পার্বণগুলো শস্য উৎপাদনের সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দিনক্ষণ নির্ধারণ করে পালন করা হতো। সেই পার্বণ বা উৎসবগুলো ধারাবাহিকভাবে এখনও পালিত হয়ে আসছে। পৃথিবীর প্রতিটির অঞ্চলের জাতি গোষ্ঠির মানুষ এ ধরনের পার্বণগুলোকে তাদের ঐতিহ্য হিসাবে লালন করে আসছে অনাদিকাল থেকে। তাই বংশপরম্পরায় এ পার্বণগুলো আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়ে থাকে। পৃথিবীতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল আজ থেকে চার হাজার বছর আগে। বাংলা বর্ষবরণ কবে কখন কীভাবে পালিত হতে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে নানা মতভেদ থাকলেও, বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাঙালি জাতির একটি ঐতিহ্যবাহী পার্বণ। বাঙালির বর্ষবরণের সাথে বাঙালি জাতির আদি সংস্কৃতিটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীনকাল থেকে বাঙালিরা বাংলা বর্ষবরণ আনন্দঘন ও উৎসবের মেজাজে পালন করে আসছে। বাংলা বর্ষবরণের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সনাতন ধর্মানুসারী সৌর পঞ্জিকা অনুসারে এ অঞ্চলের মানুষ  বাংলায় বারো মাসে বা ৩৬৫ দিনে একটি বছর হিসাবে পালন করতো। আর এই ব্যবস্থাটি ছিল খ্রিস্ট্রিয় ও হিজরি পঞ্জিকা প্রবর্তনের আগে থেকে। প্রাচীনকাল থেকে এই সৌর পঞ্জিকা প্রথমদিন নববর্ষ হিসাবে পালন করা হতো উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে। সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলার এই নববর্ষটি সেই সময় আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়– এবং ত্রিপুরায় পালন করা হতো। তাই বাংলা বর্ষবরণ উল্লিখিত অঞ্চলগুলোর সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে পরিণত হয়েছে। প্রাচীনকালে নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ পালন করা হতো আর্তব উৎসব হিসাবে। তখন এর মূল কাজ ছিল কৃষিকাজের দিকনির্দেশনা দেয়া। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের পূর্বে কৃষকরা ঋতুর উপর নির্ভরশীল ছিল। উপমহাদেশে মুসলিম শাসন শুরু হওয়ার পর, মুসলিম শাসকরা হিজরি সন হিসাবে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতেন। কিন্তু এই অঞ্চলে ফসল উৎপাদনের সাথে হিজরি সনের সামঞ্জস্যতা ছিল না। হিজরি সন এবং সৌরবর্ষ পঞ্জিকার সাথে বছরের মোট দিনের পার্থক্য রয়েছে তাই চক্রাকারে হিজরি সনের প্রথম দিনটি এমন সময় আসতো যখন এ অঞ্চলে কোন প্রকার শস্য উৎপাদনের সময় থাকতো না। ফলে তখনকার  শাসকদের খাজনা আদায় করা সমস্যা হয়ে যেতো। খাজনা আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলা সনের নব প্রবর্তনের বিষয়টি অত্যবশকীয় হয়ে উঠে। তাছাড়া  হিজরি সন অনুসারে দিন শুরু হয় সূর্যাস্তের পর অর্থাৎ সন্ধ্যা থেকে, খ্রিস্টিয় সন অনুসারে দিনের শুরু হয় রাত বারোটার পর আর বাংলা বা সৌর সনের দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ে পর থেকে। স¤্রাট আকবরের আমলে হিজরি সন এবং সৌর বর্ষ পঞ্জিকার সমন্বয় ঘটানো হয়। স¤্রাট আকবরের আমলে তাঁর নির্দেশে বাংলার বিখ্যাত জ্যোতিষ বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেউল্লাহ সিরাজী বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। তবে ফতেউল্লাহ সিরাজী মতানুসারে বাংলা সনের দিনের শুরুটা ধরা হয় সূর্যোদয়ের পর থেকে। ১৫৮৪ সালের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে পুনরায় নতুন নিয়মে বাংলা সন চালু হয় তবে এই সময়টা নিয়েও কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। প্রথমে এই ফতেউল্লাহ সিরাজীর বাংলা সনের নাম ফসলি সন পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ হিসাবে পরিচিত হয়। স¤্রাট আকবরের আমলে সাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। সেই সময় বাংলা নববর্ষ একটা মঙ্গলময় বার্তা নিয়ে আসতো। প্রজাদের ঘর ভরে উঠতো নতুন শস্যে, আর রাজকোষও ভরে যেতো প্রজাদের দেয়া খাজনায়। তখনকার দিনের  প্রজারা বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল প্রকার খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। তাই তার পরের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ভূমি মালিকরা প্রজাদের মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতেন। এখন বাংলাদেশের পাবর্ত্য জেলাগুলিতে আদিবাসীরা  রাজপুণ্যাহ পালন করে থাকে। এভাবেই হালখাতার উৎপত্তি ঘটে। কাল পরিক্রমায় বাংলা নববর্ষ একটি উৎসবে পরিণত হয়। বৃটিশ আমলে ১৯১৭ সালে একটি ব্যতিক্রম ধারায় বাংলা নববর্ষ পালন করা হয়। তখন পৃখিবীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছিল আর এই বিশ্ব যুদ্ধে বৃটিশদের বিজয় কামনা করে বাংলা নববর্ষে উপমহাদেশে অধিবাসীরা প্রার্থনার আয়োজন করেছিল। তারপর থেকে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয় তবে প্রার্থনার বিষয়টি মূখ্য হয়ে উঠেনি। পাকিস্তান শাসন আমলে বাংলাদেশে নববর্ষ পালন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সত্যের আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায় বাংলা নববর্ষ। পাকিস্তান শাসক শ্রেণি যখন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি থেকে অসাম্প্রদায়িক ধারা এবং রবীন্দ্র সাহিত্য নিষিদ্ধ করে তখন নব চেতনায় সারা বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৬১ সালে ছায়ানট প্রতিষ্ঠা পায়। আর পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি  রমনা বটমূলে বাংলা নববর্ষের সূর্যোদয়ের সাথে দিবসটি পালনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে । ইংরেজি ১৯৬৪ সালের বাংলা ১৩৭১ এর ১ বৈশাখ ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানট প্রথম নববর্ষ পালন করে। আজ পর্যন্ত ছায়ানটের এই কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ২০০১ সালে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক দানবীয় অপশক্তি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, তবে বাঙালির আদি সংস্কৃতির বহমান ধারাটির ব্যত্যয় ঘটাতে তারা পারেনি। বাংলা নববর্ষ পালনটি এখন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। কারণ বাংলা নববর্ষ হলো বাঙালির  ঐতিহ্য, অতীতের শ্রেষ্ঠ ভাব সম্পদের সমাহারকে বর্তমানে বিকশিত করাটাই হলো সংস্কৃতি। অতীতের নানা সংস্কৃতির সাথে একালের সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটছে। পৃথিবীর নানা দেশের সাংস্কৃতিক পার্বণগুলোর মেলবন্ধন ঘটছে বিশ্বের নানা প্রান্তের সংস্কৃতির সাথে। এই মেলবন্ধনের মাঝে রয়েছে সুস্থ একটি প্রতিযোগিতাও।  বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্বণগুলো মানব কল্যাণে কতটা অর্থবহ তার প্রভাব নিরূপণের মাধ্যমে এই পার্বণটি স্থান করে নিচ্ছে বিশ্ব সংস্কৃতিক দরবারে। বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিম-লে স্থান পেয়েছে। জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ সালে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের “মঙ্গল শোভাযাত্রা” কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা বা ওহঃধহমরনষব  সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত ইউনোস্কোর আর্ন্তজাতিক পর্ষদ ওঘঞঊজএঙঠঊজঘগঊঘঞঅখ ঈঙগগওঞঞঊঊ ঋঙজ ঞঐঊ ঝঅঋঊএটঅজউওঘএ ঙঋ ঞঐঊ ওঘঞঅঘএওইখঊ ঈটখঞটজঅখ ঐঊজওঞঅএঊ মঙ্গল শোভাযাত্রার বিষয়টি  অনুমোদন করে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবটি  ঘড়সরহধঃরড়হ ভরষব হড়. ০১০৯১হিসাবে চিহ্নিত ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রাটির প্রচলনও অশুভ শক্তিকে নাশ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা করেছিল। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনের অংশ হিসাবে ১৯৮৯ সালে মঙ্গল শোভা যাত্রার নতুন রুপ পায়। স্বৈারাচারী অপশক্তিকে পরাহত করতে ওই নববর্ষে বাঙালিরা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে শোভা যাত্রায় অংশ নেয়। ১৯৯০ সালে মঙ্গল শোভা যাত্রা আনন্দ শোভাযাত্রা নামে পথচলা শুরু করে। তখন নানা শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি স্থান পায় শোভাযাত্রায়। স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শোভাযাত্রার নতুন মাত্রা যোগ করে। ১৯৯১ সালের শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ অংশ নেয়। এভাবেই বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পালনের সঙ্গে  বাঙালি নানা বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে। বাংলা বর্ষবরণ এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠির প্রাচীন একটি সংস্কৃতি- তাই বাঙালির প্রচীন বিষয়গুলি যেমন বিভিন্ন প্রতিকৃতি শোভ যাত্রায় স্থান করে নেয়। বাংলাদেশের পাবর্ত্য তিন জেলার আদিবাসীরা নববর্ষ বরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ত্রিপুরা আদিবাসীরা বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের  বিজু উৎসব নামে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি পালন করে। তবে সমগ্র পার্বত্য এলাকায় তা বৈসাবি নামে পরিচিত।
প্রাচীনকাল থেকে এই অঞ্চলের মানুষের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি বাঙালি জাতির মূল পার্বণ। এই উপমহাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠির বছরের ৩৬৫ দিন যেন মঙ্গলময় হয়ে উঠে এই কামনায় বাংলা নববর্ষটি আনন্দঘন পরিবেশে পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। তাছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শান্তি, গণতন্ত্র ও বাঙালি জাতিসত্ত্¡ার ঐক্যের প্রতীক হিসাবে পরিগণিত হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলা বছরের প্রথম দিনটি মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অপশক্তির অবসান এবং বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণময় ভবিষ্যতের আশা ব্যক্ত করে চলেছে। ৭০ বছর আগে তথাকথিত দ্বিজাতি তত্ত্বের নামে ধর্মের আবরণে বাঙালি জাতিকে বিভাজিত করার চেষ্টা করেও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। ফলে দেখা যায়, একটি বিশেষ মহল বর্ষবরণে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিধর্মীদের আচার অনুষ্ঠান হিসাবে আখ্যা দিয়ে বর্ষবরণে বাধা চেষ্টা করে। এই অপশক্তি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি বিগত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের দিনে নারী নিগ্রহসহ নানা অসামাজিক কাজ করে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানগুলোর ভাবগাম্ভীর্যতা নষ্ট করার কাজে লিপ্ত। এবছরেও যে তাদের অশুভ তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে তা আশা করা যায় না। এই দানবীয় অপশক্তির প্রভাবে বাংলাদেশের নানা স্থানে ঘটছে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা। এছাড়াও মৌলবাদী অর্থনীতির পুঁজির প্রভাবে এ দেশের যুব সমাজকে বিপথে তাড়িত করছে। এদের প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে  বহু নিরীহ যুবক পরিণত হচ্ছে জঙ্গিতে। বাংলাদেশে ধর্মীয় আবরণে অশুভ দানবীয় অশুভ শক্তি দিন দিন মাথা চারা দিয়ে উঠছে। এই অশুভ শক্তিকে রুখতে হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাঙালি সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আর এই ঐক্যের একটি প্রধান প্রক্রিয়াটি হলো আদি পার্বণ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি ঘটা করে পালন করা। মঙ্গল শোভাযাত্রা কার্যক্রম এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে দেশের মানুষকে অসাম্প্রদায়িকতার বন্ধনে আবদ্ধ করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা দানবীয় সাম্প্রদায়িক শক্তি অপতৎরতা রুখতে হবে।
লেখক: কলামিস্ট