বর্ষায় সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা ছড়ায় ফুলের নগরী

আপডেট: জুন ১৯, ২০২১, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

স্মৃতি আক্তার:


নগরীর প্রধানতম রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের ফুলের শোভা পাচ্ছে। এতে করে প্রকৃতি প্রেমিরা মুগ্ধ হচ্ছেন। সেই সাথে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে নগরীর।

প্রকৃতিজুড়ে সবুজ আর সবুজ। সেই সবুজের মাঝে উঁকি দেয় রঙ-বেরঙের ফুল। মনোমুগ্ধকর এমন রূপ হরহামেশা চোখে পড়ে। রাস্তার পাশের ডিভাইডারে ত্রিভুজ, চতুরভুজসহ বিভিন্ন ডিজাইনে ফুলসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। দেখে মনেই হতে পারে- একই অঙ্গে নগরের কত রূপ।
ঋতুচক্রে এখন আষাঢ় মাস। মেঘময় দিনে রোদ-বৃষ্টির খেলা। বাহারি গাছ ও ফুলগুলোকে বৃষ্টি দিয়েছে সজীবতা। বৃষ্টিভেজা ফুলগুলোতে মুগ্ধতায় আঁটকে যায় পথচারির নয়ন-মন।
নগরীর সড়ক আইল্যান্ডে এখন শোভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের হাজারো প্রজাতির লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনি, গোলাপি- নানা রঙের ফুল। শুধু বর্ষ নয়, শীতের দৃশ্য কম মনোমুদ্ধকর নয়। পুরো শীত জুড়ে ফুলময় হয়ে থাকে নগরী। মানুষ মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করে ফুলের সৌন্দর্য। আর এসব গাছ ও ফুলের পরিচর্যায় কাজ করেন রাসিকের কর্মীরা।
নগরী বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে- পাকা রাস্তার দুইধার, আইল্যান্ডে বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির পাতাবাহার ও ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। এগুলো- বৈলাম, তেলসুর, ধারমারা, উদাল, ঢাকিজাম, তিতপাই, গুটগুটিয়া, হলুদ, বাটনা, গর্জন, বনজলপাই, ছাতিয়া, শ্বেত চন্দন।
তবে কর্তৃপক্ষ এলাকা অনুযায়ী সড়কে লাগানো গাছের তালিকা ঝুলিয়েছেন। নগরীর ভদ্রা থেকে তালাইমারি সড়কের আইল্যান্ডে শোভা পাচ্ছে বাগান বিলাস, অ্যালামুন্ডা, কলাবতিসহ নানা প্রজাতির ফুল। সাহেববাজার থেকে আলুপট্টি রাস্তায় সুগন্ধ ছড়াচ্ছে দোলনচাঁপা, গন্ধরাজ, চম্পা, হাসনাহেনা ও মিনি রঙ্গন।
কাশিয়াডাঙ্গা থেকে বহরমপুর রাস্তাটিও সেজেছে সূর্যসদৃশ সূর্যমুখি ফুলে। এই রাস্তায় সুগন্ধ আর সৌন্দর্য্য ছড়াচ্ছে গৌরিচোরা, রঙ্গন, টগর, মসুন্ডাসহ নানা প্রজাতির ফুল। কোর্টচত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা রাস্তায় এখন রয়েছে টগর, মুসুন্ডা, করবি, শিউলিসহ নানা জাতের ফুল। এছাড়া নগরীর ঐতিহ্য চত্বর থেকে নগর ভবন পর্যন্ত সড়কের পাশে শোভা পাচ্ছে কাঠগোলাপ, কাঞ্চন, পলাশ, ডেইজি, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা প্রজাতির গাছ ও ফুল।
লক্ষ্মীপুর থেকে ঘোড়াচত্বর, লক্ষ্মীপুর থেকে সিএন্ডবি মোড় পর্যন্ত সূর্যমুখি, সোনালু, জারুল, নডুসাই, কাঠগোলাপ ও জাকারান্দা জাতের ফুল সৌন্দর্য্য ছড়াচ্ছে। ইদগাহ মাঠ হয়ে নদীর তীর ধরে ভেড়িপাড়া মোড়। ঐতিহ্য চত্বর থেকে নগরভবন পর্যন্ত সড়কের পাশে শোভা পাচ্ছে পাম, রঙ্গন, কাঠ, করবি, চেরি, অ্যালামুন্ডা, জারুল, সোনালু, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, মহুয়া, হৈমন্তী, রাধাচূড়া, কাঞ্চন ইত্যাদি। তবে আইল্যান্ডে বেশি সংখ্যায় ফুলগাছ।
পথচারী শারমীন জাকিয়া জানান, দেখার মতো নগরী গড়েছে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। শান্তির শহর রাজশাহীকে আরও সুন্দর ও প্রশান্তিময় করে তুলছেন।
নাবিল ইসলাম নামের এক তরুণ জানান, করোনায় কঠোর লকডাউনে কোনো গাড়ি না থাকায় হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। কিন্তু পথে হাঁটতেও বেশ ভালো লাগছে। চারিদিকে সবুজ গাছ, বিভিন্ন ফুলের বাহার বাতাসে দুলছে। এসব দেখতে দেখতে আমি কাজের জায়গায় পৌঁছায়। আমাদের প্রশান্তির শহর রাজশাহী।
রাসিক সূত্রে জানায়- সবুজ হয়েছে প্রায় ৩০ কি.মি. রাস্তার সড়ক বিভাজন ও চত্বর। বর্তমানে মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ডে ও পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ফুটে নয়নাভিরাম ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দৃশ্যমান রয়েছে। নতুন অর্থবছরে আরো ৫০ হাজারের অধিক গাছের চারা রোপন করা হবে। এছাড়া অন্তত ১০ হাজার গাছ বিতরণ করা হবে। নতুন সড়কের আইল্যান্ড ও সড়কের পাশে ফুলের গাছ রোপণ করে সৌন্দর্যবর্ধণ করা হবে। মহানগরীকে আরো সবুজায়ন ও সুন্দর করতে নওদাপাড়া শিশু পার্কের সামনে ৪ বিঘা জায়গার উপরে রাসিকের নিজস্ব নার্সারি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ এবং স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ২০২০-২১ মৌসুমে রাসিকের উদ্যোগে প্রায় ৫০ হাজার ২৭১ টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে- নগরীর বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে, সড়ক বিভাজকে ও ফুটপাথে। ৪ লক্ষাধিক হেজ জাতীয় গাছ রাস্তার আইল্যান্ড ও শহরের ফাঁকা জায়গায় লাগানো হয়েছে। এছাড়া ২০২০-২১ শীত মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির শীতকালীন মৌসুমী ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে নগরীর বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ডে ও চত্বরে। সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সম্মানিত ৪০ জন কাউন্সিলরদের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৩৩৩টি ফলজ ও ওষুধি গাছ জনগণের মাঝে বিতরণ করে রোপণ করা হয়েছে। নগরীর ১ হাজার ৮০০টি গাছে নামফলক লাগানো হয়েছে। প্রতিটি ফলকে গাছের বাংলা ও ইংরেজি নামের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক নাম এবং গাছগুলো কোন গোত্রের তা উল্লেখ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসী, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা গাছের পরিচিতি এবং গাছসমূহের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত হবে।
পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে রাজশাহী অর্জন করেছে “এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অফ দ্যা ইয়ার-২০২০” সম্মাননা। চ্যানেল আই প্রকৃতি মেলা ১০ম বর্ষে পদার্পণে ১ম বারের মত এ পদক প্রদান করা হয় বিশ্বের সবচাইতে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে রাজশাহীকে। বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপনসহ বহুমুখি উদ্যোগের কারণে ২০১৬ সালে বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণা কমাতে বিশ্বের সেরা শহর নির্বাচিত হয় রাজশাহী। ২০১২ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো পরিবেশ পদক লাভ করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। ২০০৯ সালেও বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করে রাসিক। পরিবেশের আরো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বসতবাড়ি, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে ছাদ বাগান কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ উল ইসলাম জানান, সবুজের সাথে সাথে ফুলের নগরী বলে পরিচিত পাচ্ছে। তাতে দেশি গাছের সংখ্যা বেশি। ২০২০-২১ মৌসুমে রাসিকের উদ্যোগে প্রায় ৫০ হাজার ২৭১টি গাছ সড়কে লাগানো হয়েছে। বর্তমান লকডাউনেও গাছের পরিচর্যার কাজ চলমান রয়েছে। আমরা চাই কোনো ভাবেই জনগণ গাছের ফুল না ছেড়ে, এতে সৌন্দর্য্য নষ্ট হবে।
তিনি আরও জানান, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নিজে তদারকি করছেন। কোন জায়গা ফাঁকা রয়েছে, কোন গাছ লাগালে আরও সৌন্দয্য বাড়বে। একে রাস্তার একাক রকমের গাছ লাগানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ