বসন্তের আকাশে মেঘ, শীতের আমেজ, কুয়াশাও

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বসন্তেও আকাশ ভরা মেঘ। শীত শীত ভাব, যেনো ফিরছে। খুব ভোরে কুয়াশার দেখা অস্বাভাবিকই বটে। এর মধ্যে বৃষ্টিও হয়ে গেছে। আবহাওয়ার এ বেজায় পাগলাপনা। তাপমাত্রার দ্রুত কমবেশি উঠানামা নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করেছেÑএকটু অসতর্কতায় জ্বর, সর্দি, কাশি আক্রান্ত করছে। বৈরি এ আবহাওয়া কী জলবায়ু পরিবর্তনের ফল!
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, যে কোনো সময় রাজশাহীর ওপর দিয়ে বৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। মেঘলা আবহাওয়া তারই পূর্বাভাস বলে জানাচ্ছে রাজশাহীর আবহাওয়া অধিদফতর। এই বৈরি আবহাওয়া আম ও রবিশস্যের জন্য মোটেও সহনীয় নয়Ñবলছেন কৃষিবিদরা। তাই দুশ্চিন্তা কৃষকদের মধ্যেও।
গতকাল বৃহস্পতিবার রোদ- মেঘের লুকোচুরি খেলা ছিল। খুব সকালে মৃদু শৈত্য প্রবাহের সাথে প্রকৃতি ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার সকালে একথা জানিয়ে বলেছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
কলকাতার আবহাওয়া দফতরের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জের ধরেই আবহাওয়া পরিস্থিতি এমনটি হচ্ছে। জোড়া ঘূর্ণাবর্তের একটি রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের ওপর, আরেকটি বাংলাদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলে। দুয়ের জোড়া ফলই কোথাও কোথাও অকাল-বৃষ্টি। এর জেরে তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে।
উদ্ভুত আবহাওয়া পরিস্থিতিতে নগরীর ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে রাজশাহী আবহাওয়া অধিদফর জানাচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। এ সময় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত এবং ব্যাপক শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে খুবই সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪ মার্চ। ভোরে ও রাতে দুইদফা বৃষ্টি হয়। এতে রাজশাহীতে ১ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর দুপুর ১টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ, যা দুপুর ১২টায় হয় ৮৬ শতাংশ।