বসন্তে ছয়টি প্রাণের স্পন্দন

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

শিরীন শরীফ:


তিনজনের একজনকে ম্যানেজ করাটাই ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। জানিনা কেমন করে আয়ত্বে আনতে পারলাম। আমি নিজেই অবাক হলাম। রুকি ভাবী অনেক আন্তরিক, আমাকে সহযোগিতা না করলে পারতাম না। আর ছোট আপাতো তীক্ষ্ম বুদ্ধি সম্পন্ন নির্ভেজাল একজন মানুষ। তিনি কোনো সময় কাউকে অখুশি করেন না। সবাইকে আগলে রাখেন। দুলাইভাইকে তিনি ভালোবেসে সবার চোখে একজন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনেক কিছুই শেখার আছে তাঁর কাছে। অনেক কিছুই শেখার আছে তার কাছে। ‘সীমান্ত নঙ্গর’ সেখানে উপস্থিত হলাম আমরা ছয়জন সদস্য। তিন বুড়ো আর তিন বুড়ি। এ যেন অছেদ্য বন্ধন।
বন্ধুদ্বয় এবং বন্ধুপাতœীদ্বয়। আর আপা দুলাভাই। একান্ত আন্তরিক ও মমত্ববোধ আছে তাদের মাঝে আর একে অপরের সৌহার্দ্য-সমম্প্রীতি, ভালোলাগা ভালোবাসা ¯েœহশীল উদারতাই তখন উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। সব মিলেমিশে যেন অন্য এক জগতে পৌঁছে গিয়েছিলাম। সে জগতে কঠোরতা নেই হারাবার ভয় নেই বসন্তের সন্ধ্যায় যেন প্রকৃতিতে নেমে এলো পূত-পবিত্র মোহনাীয় পরশ।
কথার সাগরে উপচে পড়ছিল ঢেউগুলো সুখগুলো সব ঝরে ঝরে পড়ছিল মাত্র ছয় জনের নির্ভরতার আশ্চর্য বন্ধনের উপর। আনন্দ মুখরিত সন্ধ্যায় উছলে উঠে ছিল হৃদয় সিংহাসন। আনন্দ ভালোলাগার মধুময় ঐশ^র্যে জেগে উঠেছিল প্রাণ-স্পন্দন। ছয় ছয়টি প্রাণের মিলন মেলা।
সেখানে আশে পাশে হয়তো ছিল আরো কেউ না কেউ, নিজেদের গল্পে জালি ঢেলে বিছিয়ে মেতে ওঠার আকুলতায়। হয়তো বা আমাদের ভাষা, স্বাদ, পূর্ণতা অবলোকন করছিল। একটুও মনে পড়েনি কে কি ভাবলো না ভাবলো, না ভাবলো কোকিল ডাকলো কি ডাকলো না আমাদের নিতল হৃদয়ে তখন প্রেমের সৌধ। বসন্তের বিহ্ববলতায় আবেগ অনুভূতি দুচোখে, তখন প্রজাপতির রঙিন ডানায় রঙের মাতামাতি।
ব্যক্তিত্ববান সুপুরুষ দুলাভাই মানুষটিও হার মানতে বাধ্য। আর আমরা তো আছিই আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নে বিভোর। সেখানে আমরা কিন্তু কেউই নবীন-কিশোর-যুবক নই কিন্তু কি যে সুর ছিল মনে ঠিক যেন খোলসে ঢুকে থাকা কিষ্ণাচূড়া এ বসন্তে ফুটে ওঠে অলৌকিক স্পর্শে। তেমনি প্রবীণ মনেও যেন প্রকৃতি ছায়ায় ছোঁয়ায় কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া শিমুল-পলাশের রং লেগেছিল।
মণ-প্রাণ উজাড় করে আনন্দের উপকরণে মুগ্ধ হয়েছিলাম আমি, মুগ্ধ আমার প্রাণপ্রিয় প্রাণ নাথ। মুগ্ধ প্রাণ প্রিয় বন্ধু আর বন্ধুপতœী। মুগ্ধ দুলাইভ ছোট আপা। ভাব গম্ভীর দুলাভাই সব সময় কথার তোড়ে তুঙ্গে তুলে রাখে আর হাসি রহস্যের জালে খই ফোটে। তবে আমাদের বাঁকা ফেখের হাসি তাকে বিভ্রান্ত করে। তিনি নিজেই বেশামাল হন। এতই সহজ ? এক গন্ডা আরো একটা পাঁচ-পাচটাকে পেরে ওঠা। যুক্তি ছাড়া যুক্ত করি তারে প্রশ্নবিদ্ধ করি তারে তিনি পরাভূত হতে বাধ্য। তবে জানেন এতে আমরা খুব খুশি, সুখ-সুখ অনুভব করি। ছয়টি প্রাণের মেলায় উদাস মনের আকুলতা আজীবন মনের মুকুরে ধরে রাখবো। বন্ধুদ্বয় চা-কফি পছন্দ মত নানা খাবারের অর্ডার দিলেন। কতটুকু কে কি খেলাম জানিনা মহা আড়ম্বরে স্বগৌরবে নতুন করে সেই ফেলে আশা বন্ধুদের আড্ডায় প্রাণ পেলাম। মুগ্ধ হলাম, ধন্য হলাম। ফুরফুরে আমেজে একমত হয়ে উষ্ণতার শুভেচ্ছা বিনিময়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারি জীবনে ফিরে এলাম। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিনোদনের উৎস পেতে আর কি লাগে ? এতোটুকু হলেই চলে। এই যে দেখা অতীতের স্মৃতিচারণ, ভাব বিনিময়, সুখ-দুখের ভাগাভাগি, আনন্দযাপন সবই তো মনে হয় কতো আপন। তবে কেনো থেমে যাবে এই আয়োজন এই মিলন খেলা। আমাদের যাপিত জীবনের কোলাহল ছেড়ে একান্ত নিজের করে সেই চেনা মুখগুলোর সাথে এমন সময় কাটানোর স্মৃতি সত্যি চিরঅমলিন, সত্যি চিরউজ্জ্বল। এই বন্ধন অন্তরের এই বন্ধন একবারে হৃদয়ের।
কি গভীর. নিবিড়, প্রাগাঢ়, হলো ইতিহাসের পাতা। সমৃদ্ধ হলো ছয়টি প্রাণের হাস্য উজ্জ্বল মুখ। নির্ঞ্ঝাট ধ্বতুরাজ বসন্ত এনেছিল মনের বনে সবুজ উন্মচনের প্রণোদণা জ্ঞানের মস্ত চাবি হাতে দিয়ে প্রকৃতি ঢেলে অন্তরে অন্তরে অঝোর শান্তির বর্ষণ।